খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই এপ্রিল ২০২৬, ৮:২৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন সনদ তৈরির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় চারটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে কেন চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চার ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি–১ শাখার উপসচিব হেলেনা পারভীন স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে ২১ এপ্রিল এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনটি গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছায় এবং পরদিন বৃহস্পতিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চার চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলো–এ প্রকাশিত “লক্ষ্যপূরণে ভুয়া জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধন” শিরোনামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রথম উঠে আসে। পরে ২০ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসককে সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যানরা হলেন—
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা হলেন—
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তদন্তে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন সনদ তৈরি করে লক্ষ্য পূরণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে, যা প্রশাসনিক বিধি ও আইনবহির্ভূত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনস্বার্থবিরোধী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তাই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক জানান, তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল এবং তাতে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে।
| পদবি | নাম | ইউনিয়ন |
|---|---|---|
| চেয়ারম্যান | নাসির উদ্দিন | সাদেকপুর |
| চেয়ারম্যান | আতিকুর রহমান | বুধল |
| চেয়ারম্যান | মো. ফারুক ইসলাম | কুটি |
| চেয়ারম্যান | ফাইজুর রহমান | চরচারতলা |
| প্রশাসনিক কর্মকর্তা | কাজী তাজউদ্দিন আহমেদ | কুটি |
| প্রশাসনিক কর্মকর্তা | মোহাম্মদ আতিকুর রহমান | সাদেকপুর |
| প্রশাসনিক কর্মকর্তা | মো. হাসান ভূঁইয়া | বুধল |
| প্রশাসনিক কর্মকর্তা | মো. রাসেল মাহমুদ | চরচারতলা |
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য