জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা নিয়ে দেশে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক ব্যবসায়িক আলোচনা সভায় একদল শীর্ষ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, ড. ইউনূস দেশকে মারাত্মক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ‘অথৈ সাগরে’ ফেলে গেছেন। তাঁদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনকালে কার্যকর নীতিমালার অভাব, বাজারে অস্থিরতা এবং শিল্প উৎপাদনে মন্দার কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতি চরম সংকটে পতিত হয়। এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রেখে বিদায় নেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
তবে সভায় উপস্থিত প্রধান অতিথি, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ড. ইউনূস স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে যাননি কিংবা পদত্যাগ করে পালিয়েও যাননি। তাঁর ভাষ্যমতে, দেশের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ধারাবাহিক গণআন্দোলন, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ ঘেরাও এবং বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর তীব্র বিক্ষোভের মুখে এক বাধ্যবাধকতামূলক পরিস্থিতিতে তাঁকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। ফলে সংকট সমাধানের পূর্ণ সুযোগ ও পরিবেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পায়নি।
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে এক রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল। প্রায় দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন দায়িত্ব থেকে বিদায় নেয়।
ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই বিদায়ী প্রশাসনের অর্থনৈতিক সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে নানামুখী বিশ্লেষণ শুরু হয়। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং নতুন বিনিয়োগের স্থবিরতা নিয়ে শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে জমানো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এই আলোচনা সভায়। অন্যদিকে, ড. ইউনূসের সমর্থক ও বিদায়ী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, একটি অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ থেকে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনা এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাই ছিল তাঁদের মূল অগ্রাধিকার। ব্যবসায়ীদের এই ক্ষোভ ও তার জবাবে সাবেক প্রশাসনের ব্যাখ্যা—উভয় মিলেই বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য