জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৮:১১ পিএম

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় একটি জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলামসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার শালহাটি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শালহাটি এলাকার একটি ঘরে নিয়মিত জুয়ার আসর বসার অভিযোগ পাওয়া যায়। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জড়ো হয়ে জুয়া খেলছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ওই ঘর থেকে আটজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। এ সময় জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ডিমলা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম। তিনি উপজেলার বাবুরহাট এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেনের ছেলে। একই অভিযানে গ্রেফতার অন্যরা হলেন—একই এলাকার সুরেশ সিংহ রায়ের ছেলে নির্মলেন্দ রায় (৪৬), শুজারু বর্মণের ছেলে দীনবন্ধু রায় (৫৪), বজেন্দ্র রায়ের ছেলে বিপুল রায় (৩২), শালহাটি এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে লাবলু ইসলাম (২৮), আকাশকুড়ি এলাকার নুরুল হকের ছেলে রফিকুর ইসলাম (৩২), দেলোয়ার হোসেনের ছেলে নুর ইসলাম (৪৫) এবং জলঢাকা উপজেলার পশ্চিম গোলমন্ডা গ্রামের তালেব মোখছেদুর রহমান (৪০)।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে ওই স্থানে নিয়মিত জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত আটজনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি জুয়া খেলার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি, ঠিক কতদিন ধরে ওই স্থানে জুয়ার আসর বসছিল, সেখানে নিয়মিত কারা অংশ নিতেন কিংবা এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না।
ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার জানান, গ্রেফতার আটজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে জুয়ার আসর নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কোনো এলাকায় নিয়মিত জুয়ার আসর পরিচালিত হলে তা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণই নয়, স্থানীয় সামাজিক পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জুয়াকে ঘিরে বিরোধ, অর্থনৈতিক সংকট এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এ কারণে অভিযোগ পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
ডিমলার শালহাটি এলাকায় পুলিশের সর্বশেষ অভিযানকে স্থানীয় পর্যায়ে জুয়া বন্ধে চলমান আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগের আইনগত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে। ফলে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
মন্তব্য