রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতের পর বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাহমুদা আক্তার ওরফে জেরিন (২৭)। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর শিক্ষার্থী ছিলেন।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইমাউল হক জানিয়েছেন, মাহমুদা বসুন্ধরা আবাসনের সি-ব্লকের একটি বাসার কক্ষে ভাড়া থাকতেন। দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ থাকা দেখে পাশের কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা বুধবার সন্ধ্যায় থানায় খবর দেন। পুলিশ কক্ষটি খুলে গিয়ে মাহমুদাকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত অবস্থায় পান।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, কক্ষটি মাহমুদা একাই ব্যবহার করতেন। পাশের কক্ষে অন্য শিক্ষার্থীরা থাকলেও তারা এই সময় কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা লক্ষ্য করেননি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠায়।
ভাটারা থানা থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মাহমুদার মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সহপাঠীদের বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল ওয়াদুদ, জানিয়েছেন, মাহমুদা সম্প্রতি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। তিনি হতাশা থেকে আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে পুলিশের এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে।
মাহমুদার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলাতে। বাবার নাম খোরশেদ আলী। পরিবার ও আত্মীয়রা এখনও মানসিকভাবে স্তব্ধ।
নিচের টেবিলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| মৃত শিক্ষার্থীর নাম | মাহমুদা আক্তার ওরফে জেরিন |
| বয়স | ২৭ বছর |
| বিশ্ববিদ্যালয় | আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB) |
| বাসার এলাকা | বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, সি-ব্লক |
| উদ্ধার সময় | বুধবার রাত, বৃহস্পতিবার নিশ্চিত |
| মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ | হতাশা থেকে আত্মহত্যার সম্ভাবনা (প্রাথমিক অনুমান) |
| মামলা | অপমৃত্যুর মামলা, ভাটারা থানা |
| ময়নাতদন্ত | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে |
| গ্রামের বাড়ি | নোয়াখালী জেলা, সোনাইমুড়ী উপজেলা |
| পিতার নাম | খোরশেদ আলী |
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার সঙ্গে জড়িত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। পাশের কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা এবং শিক্ষার্থীদের সহপাঠীরা এই ঘটনায় মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাহমুদা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ ও হতাশার শিকার ছিলেন, যা তাকে এই চরম সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিতে পারে।
