জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জুলাই ২০২৬, ২:৩১ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গী ভাদাম এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ইব্রাহিম নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাতে স্থানীয় ‘হাজী কালু মিয়া মহিলা আদর্শ মাদ্রাসা’য় এই ঘটনাটি ঘটে। কোমলমতি শিশুটির ওপর এই অমানবিক নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজপথে নেমে আসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটি হাজী কালু মিয়া মহিলা আদর্শ মাদ্রাসার একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার রাতে মাদ্রাসার অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম ফাঁকা সুযোগে ১০ বছরের ওই শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। নির্যাতনের শিকার শিশুটি কোনোমতে রক্ষা পেয়ে বাড়িতে গিয়ে পুরো ঘটনা তার পরিবারকে বিস্তারিত জানায়।
পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের এমন অনৈতিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডের খবর মুহূর্তের মধ্যে ভাদাম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষকের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মাদ্রাসার সামনে জোরালো বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা শুরু করেন। থমথমে পরিস্থিতির খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেয়।
ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালিয়ে অবশেষে পলাতক শিক্ষক ইব্রাহিমকে আটক করতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন:
“ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম অভিযানে নামে। শিক্ষক পালিয়ে গেলেও আমরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসতে সক্ষম হই। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।”
শিক্ষকের মতো দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন নীতিহীন অপরাধে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মনে গভীর নিরাপত্তার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, যেখানে অভিভাবকেরা নিশ্চিন্তে সন্তানদের শিক্ষার জন্য পাঠান, সেখানে যদি শিক্ষকের হাতেই তারা নির্যাতনের শিকার হয়, তবে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের আস্থা উঠে যাবে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত ইব্রাহিমের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন, যেন এটি সমাজে দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আলামত সংগ্রহসহ মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
মন্তব্য