জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ১১:২৬ পিএম

দক্ষিণ আমেরিকার পেরুর বিখ্যাত ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ‘নাজকা লাইনস’ (Nazca Lines) পরিদর্শনের সময় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিমান ভেঙে পড়ে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) পেরুর নাজকা শহরের নিকটবর্তী একটি খোলা মাঠে পর্যটকবাহী ছোট বিমানটি আছড়ে পড়ে এই ট্র্যাজেডি ঘটে।
নাজকা মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল তথ্যমতে, শত শত বছর পূর্বে স্থানীয় আদিবাসীদের তৈরি মরুভূমির সুবিশাল ভূ-চিত্র বা ‘জিওগ্লিফ’ (Geoglyphs) দর্শনার্থীদের দেখানোর উদ্দেশ্যে বিমানটি উড্ডয়ন করেছিল। ধূসর মরুভূমির বুকে আঁকা বিশাল সব পশুপাখি, অদ্ভুত আকৃতি ও জ্যামিতিক নকশার এই প্রাচীন শিল্পকর্মগুলো সমতল ভূমি থেকে বোঝা অসম্ভব; কেবল আকাশপথ কিংবা উঁচু ভিউয়িং টাওয়ার থেকেই এর আসল রূপ স্পষ্টভাবে ধরা দেয়। এই অনন্য দৃশ্য উপভোগ করতেই পর্যটকরা রোমাঞ্চকর আকাশভ্রমণে অংশ নেন।
পেরুর বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানে ১১ জন বিদেশি পর্যটকের সাথে ২ জন স্থানীয় ক্রু সদস্য ছিলেন। বিমানে থাকা ১৩ জন আরোহীর কেউই বেঁচে ফেরেননি। পেরুর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘অ্যান্ডিনা’ (Andina) নিহতদের যে পরিচয় প্রকাশ করেছে:
ইতালি: ৭ জন পর্যটক
জার্মানি: ২ জন পর্যটক
স্পেন: ২ জন পর্যটক
পেরু: ২ জন ক্রু (পাইলট ও কো-পাইলট)
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি পেরুর স্থানীয় বিমান পরিবহন সংস্থা ‘অ্যারোডিয়ানা’ (Aerodiana) দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল, যা পার্শ্ববর্তী ইকা (Ica) শহরের বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। অ্যারোডিয়ানা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যসূত্রে জানায়, তারা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ‘সেসনা গ্র্যান্ড ক্যারাভান’ (Cessna Grand Caravan) বিমানের সাহায্যে পর্যটকদের নাজকা লাইনসের ওপর নিরাপদ সাইটসিয়িং সেবা দিয়ে আসছে।
অভিজ্ঞ এই বিমান সংস্থার অধীনে এমন বড় বিপর্যয়ের পর তাদের পক্ষ থেকে সাথে সাথে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঠিক কী যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা বৈরী বাতাসের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে পেরুর সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এবং একটি বিশেষ তদন্ত দল উদ্ধারকাজ শেষে বিস্তারিত অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।
(তথ্যসূত্র: এনডিটিভি)
মন্তব্য