রাজধানীতে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় একযোগে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মোট ৫০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র, চোরাই মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অপহরণের শিকার এক ভিকটিমকেও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ রোববার (৫ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে অভিযানের এই বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ ও গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। অপরাধীদের দমনে ডিএমপির এই নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই রাজধানীর আটটি ক্রাইম বিভাগে একযোগে এই তৎপরতা চালানো হয়।
বিভাগভিত্তিক গ্রেপ্তার ও অপরাধের চিত্র
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জোনে আলাদা আলাদা টিম গঠন করে এই অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে উত্তরা বিভাগ থেকে, যার সংখ্যা ১৩৭ জন। এছাড়া মিরপুর বিভাগ থেকে ৯৫ জন এবং তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদক আইন, অস্ত্র আইন এবং অন্যান্য প্রচলিত ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ৮টি অপরাধ বিভাগ থেকে গ্রেপ্তারকৃতদের সংখ্যা এবং উদ্ধার হওয়া মাদক ও মালামালের একটি সামগ্রিক পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | তথ্য ও বিভাগের নাম | পরিসংখ্যান / উদ্ধারকৃত মালামাল |
| ১ | রমনা বিভাগ | ৫২ জন গ্রেপ্তার |
| ২ | লালবাগ বিভাগ | ২৩ জন গ্রেপ্তার |
| ৩ | ওয়ারী বিভাগ | ৩২ জন গ্রেপ্তার |
| ৪ | মতিঝিল বিভাগ | ৪৮ জন গ্রেপ্তার |
| ৫ | তেজগাঁও বিভাগ | ৬৮ জন গ্রেপ্তার |
| ৬ | মিরপুর বিভাগ | ৯৫ জন গ্রেপ্তার |
| ৭ | গুলশান বিভাগ | ৫৩ জন গ্রেপ্তার |
| ৮ | উত্তরা বিভাগ | ১৩৭ জন গ্রেপ্তার |
| ৯ | মোট গ্রেপ্তার ও মামলা | ৫০৮ জন গ্রেপ্তার এবং ৫০টি মামলা |
| ১০ | উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য | ১ কেজি ২৬০ গ্রাম গাঁজা, ৩৮১ পিস ইয়াবা, ৮ গ্রাম হেরোইন ও ১২ বোতল বিদেশি মদ |
| ১১ | অন্যান্য উদ্ধারকৃত মালামাল | ১টি ধারালো ছুরি, ১৪টি মোবাইল ফোন, ৬ বস্তা ভারতীয় হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ও নগদ ২২,১২০ টাকা |
অপরাধ দমনে ডিএমপির কঠোর হুঁশিয়ারি
ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে মাদক ছাড়াও অপরাধকর্মে ব্যবহৃত ২টি রাংচা কাগজ ও ২টি কর্ক জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া ৬ বস্তা ভারতীয় হোমিওপ্যাথিক ওষুধ চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ডিএমপি সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরীকে অপরাধমুক্ত এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরণের ঝটিকা ও নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকবে। নাগরিক নিরাপত্তায় ডিএমপির এই বিশেষ অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।









