জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ১১:২৬ এএম

দেশজুড়ে আবারও আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আজ ৩ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি আংশিক বৃষ্টি বলয় সক্রিয় থাকতে পারে। এর প্রভাবে দেশের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী বেসরকারি সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি একটি আংশিক বৃষ্টি বলয় হওয়ায় দেশের সব জায়গায় সমান বর্ষণ হবে না; বরং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই বৃষ্টি বলয় চলাকালীন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টিপাতের সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি দেখা যাবে। অন্যদিকে খুলনা, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে এটি মাঝারি ধরনের সক্রিয় থাকতে পারে। সময়সূচি অনুযায়ী, ৩ আগস্ট রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বলয়টি প্রথম আঘাত হানবে। এরপর ৪ আগস্ট রাজশাহীতে এবং ৫ ও ৬ আগস্ট তা দেশের অধিকাংশ এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। মূলত ৫ ও ৬ আগস্ট পুরো দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা চরমে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্ষণজনিত এই পরিবর্তনের ফলে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের নিচু এবং অতিবন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সাময়িক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ দিনগুলোতে উত্তরাঞ্চলে রোদের উপস্থিতি খুবই কম থাকবে এবং সার্বিকভাবে ৫ ও ৬ আগস্ট সারা দেশের আকাশ প্রধানত মেঘলা থাকবে। তবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণাঞ্চলে মাঝে মাঝে সাময়িক রোদের দেখা মিলতে পারে।
বিডব্লিউওটি বিভাগভিত্তিক সম্ভাব্য গড় বৃষ্টিপাতের একটি হিসাব প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির ধারণা অনুযায়ী, ৩ থেকে ৪ দিনের সময়সীমার মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে এই বৃষ্টিপাত সম্পন্ন হতে পারে:
রংপুর বিভাগ: সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২২০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার।
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ: ২০০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার।
রাজশাহী বিভাগ: ১৭০ থেকে ২২০ মিলিমিটার।
খুলনা বিভাগ: ১৪০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার।
ঢাকা বিভাগ: ১০০ থেকে ১২০ মিলিমিটার।
চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগ: ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার।
তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এটি বিভাগীয় গড় বৃষ্টিপাতের হিসাব হওয়ায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
এদিকে সমুদ্র পরিস্থিতির বিষয়ে জানা গেছে, এই নির্দিষ্ট সময়ে বঙ্গোপসাগরে কোনো বড় ধরনের নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা কম। তবে বায়ুমণ্ডলে সঞ্চালনশীল গভীর মেঘমালার সৃষ্টির কারণে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় হঠাৎ দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে সাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক পরিবর্তনশীলতার কারণে এই বৃষ্টি বলয়ের স্থায়িত্ব, সময়সূচি ও তীব্রতায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।
মন্তব্য