খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ৩:১৫ পিএম

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস (আজীবন) অধ্যাপক পদে নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ওই পদের বিপরীতে তিনি যে বেতন ও ভাতা গ্রহণ করেছেন, তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামালের সই করা অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় একজন সদস্যের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়েছিল। একই সভায় সংশোধিত অধ্যাদেশের আওতায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে পুনরায় নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, একই সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাদেশ সংশোধন এবং সেই সংশোধিত বিধানের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগ অনুমোদনের প্রক্রিয়া বিধিবহির্ভূত। এ কারণে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার পর ওই নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ কার্যকরের সময় থেকে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ দেশের চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষার অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি চিকিৎসাসেবা এবং চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। মেডিসিন বিষয়ে তাঁর একাধিক গ্রন্থ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের পাঠ্যতালিকায় স্থান পেয়েছে। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে চিকিৎসা পেশা ও চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রোগী এবং মানুষের সেবায় কাজ করেছেন। তাঁর দাবি, ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাঁর পেশাগত যোগ্যতা, অবদান এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে। তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, যেভাবে তাঁর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল করা হয়েছে, সেটিকে তিনি নীতিসংগত মনে করেন না। তাঁর ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও পেশাগত অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত সম্মান অক্ষুণ্ন থাকবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত চিকিৎসা অঙ্গন ও শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক বিধি অনুসরণের বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আরও সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করা হলে এ ধরনের বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে।
মন্তব্য