খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ১২:৪৬ এএম

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় ১৬ পিস ইয়াবাসহ সাঈদ হোসেন নামের এক ফায়ার সার্ভিস কর্মীকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে আটক করার পর উত্তেজিত জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে উপজেলার সারঙ্গদিয়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। সরকারি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কর্মীর এমন মাদককাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আটককৃত সাঈদ হোসেন শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনে কর্মরত আছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই সারঙ্গদিয়া এলাকায় সাঈদের চলাফেরা এবং বিভিন্ন অপরিচিত যুবকদের সঙ্গে তাঁর মেলামেশা সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। ঘটনার রাতে তিনি ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচা বা সরবরাহের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন। তাঁর গতিবিধি দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয় যুবকেরা তাকে অবরুদ্ধ করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১৬ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। এই সময় উত্তেজিত জনতা তাকে ক্ষোভে উত্তম-মধ্যম দেয় এবং শ্রীপুর থানা পুলিশে খবর পাঠায়।
সহকর্মী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের অফিসার মো. সামসুল আলম। তবে সাঈদের এই অপকর্মের দায়ভার প্রতিষ্ঠান নেবে না বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সাঈদ ব্যক্তিগতভাবে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কি-না, তা আমার জানা ছিল না। তবে তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ইয়াবাসহ ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্যকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দিয়েছে। তিনি এখন থানা হাজতে পুলিশ হেফাজতে আছেন। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মাদকের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওলি মিয়া আরও বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সাঈদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মন্তব্য