খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুন ২০২৬, ২:২৩ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রবিবার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখান থেকে সোমবার সন্ধ্যায় তিনি চার দিনের সফরে চীনে যাবেন। এই জোড়া সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি অন্তত ২০টি সমঝোতা চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসূচি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২৩-২৬ জুন চীন সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ ২৭ থেকে ২৮ জনের একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদল থাকছে।
সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত ও উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আলোচনার মূল বিষয়: বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, জনযোগাযোগ, মালয়েশিয়ায় নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন।
সম্ভাব্য চুক্তি: সংস্কৃতি বিনিময় এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত দুটি দলিল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী চীনের দালিয়ানে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সভা ‘সামার দাভোস’-এ অংশ নেবেন।
মঙ্গলবার: ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। ডব্লিউইএফ সম্মেলনে ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ এবং সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের স্বাগত নৈশভোজে অংশগ্রহণ।
বুধবার: সামার দাভোসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর দুপুরে ট্রেনে বেইজিং যাত্রা।
বৃহস্পতিবার: চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক। ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান এবং বিকালে গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সই।
শুক্রবার: চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এরপর তিয়েনআনমেন স্কয়ারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা।
সম্ভাব্য চুক্তি ও আলোচনা: চীন সফরে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি (১৩টি এমওইউ, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা ও একটি প্রটোকল) সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, পূর্ববর্তী সরকারের অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন এবং অন্যান্য ১৪টি দেশের মতো সমান নিয়ম চালু করা উচিত।
ভূরাজনৈতিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. এম শাহিদুজ্জামান জানান, এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাস্তব পরিবর্তন আসবে, যা বাংলাদেশের ওপর ভারতীয় প্রভাব কমাবে। সামরিক ক্ষেত্রে চীনের সহায়তা ও বঙ্গোপসাগরে উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে এবং ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্র্যাটেজিতে পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রও এতে আপত্তি করবে না।
মন্তব্য