খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুন ২০২৬, ৫:২৮ পিএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আলাদা শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ রেখে বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও দুই মাসের মধ্যেই তা সংশোধন করে ওই সুযোগ বাতিল করা হয়। ফলে সংগীতশিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া থেমে যায়।
বর্তমান সরকার আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্যক্রমে নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘কালচার’ ও ‘স্পোর্টস’ নামে দুটি বিষয় এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’ বাধ্যতামূলক করার কথা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীতশিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
Table of Contents
বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত সংগীত শিক্ষক না থাকায় সরকার আপাতত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন সংগীতশিক্ষকদের ক্লাস্টার আকারে উপজেলা পর্যায়ে কাজে লাগানো হবে। পাশাপাশি কেরাত প্রতিযোগিতা, সংগীত প্রতিযোগিতা এবং নৈতিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, সংগীত ও কেরাত প্রতিযোগিতা আয়োজনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ বিষয়ে কার্যক্রম একসঙ্গে চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আপাতত সংগীত শিক্ষকদের ঘাটতি পূরণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ক্লাস্টারভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংস্কৃতি ও সংগীত বিভাগ থেকে শিক্ষক পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, মন্ত্রিসভায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীতশিক্ষক নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি—এ ধরনের তথ্য সঠিক নয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সংগীত বিষয়ে আলাদা পাঠ্যপুস্তক নেই এবং কোনো আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা নেওয়া হয় না। তবে শিক্ষকদের নির্দেশিকার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নির্ধারিত সংগীত কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংগীত শেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস-ঐতিহ্যবোধ, মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, শ্রমের মর্যাদা এবং বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে ভর্তি হার বাড়া এবং ঝরে পড়া কমার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক স্তরে মোট ১৩টি গান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে জাতীয় সংগীতসহ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের গান রয়েছে। নিচে গানগুলোর তালিকা দেওয়া হলো—
| ক্রম | গান/সংগীত |
|---|---|
| ১ | আমার সোনার বাংলা (জাতীয় সংগীত) |
| ২ | এই সুন্দর ফুল সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি |
| ৩ | রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি বাংলাদেশের নাম |
| ৪ | আমরা করব জয় |
| ৫ | আল্লা মেঘ দে পানি দে |
| ৬ | প্রজাপতি প্রজাপতি কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা |
| ৭ | আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে |
| ৮ | নিজের হাতে কাজ কর |
| ৯ | চল চল চল |
| ১০ | প্রিয় ফুল শাপলা ফুল |
| ১১ | ধনধান্য পুষ্পভরা |
| ১২ | আমরা সবাই রাজা |
| ১৩ | আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি |
২০২০ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আলাদা শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব তৈরি করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৫ হাজার ১৬৬টি পদে নিয়োগের প্রস্তাবে সম্মতি দেয়, যার মধ্যে ২ হাজার ৫৮৩টি সংগীত শিক্ষক এবং ২ হাজার ৫৮৩টি শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদের পরিকল্পনা ছিল।
গত বছরের ২৮ আগস্ট জারি করা ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’-এ সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ধর্মভিত্তিক কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিধিমালা সংশোধন করে ওই দুই পদ বাতিল করা হয়। সংশোধনের পর কেবল প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদ বহাল রাখা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ শিক্ষার্থী এবং প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক কর্মরত আছেন। প্রাথমিক স্তরে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ নেই; সাধারণ শিক্ষকরা সব বিষয় পড়ান। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের দিয়ে ২০ শতাংশ পদ পূরণের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
মন্তব্য