খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ১২:৩১ এএম

বিশ্বের অন্যতম প্রধান আর্থিক কেন্দ্র সিঙ্গাপুর তাদের বিমা খাতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘মনিটারি অথরিটি অব সিঙ্গাপুর’ (এমএএস) বিমা ঝুঁকি স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে একটি নতুন করপোরেট কাঠামো চালু করার পরিকল্পনা করছে। নতুন এই কাঠামোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রটেক্টেড সেল কোম্পানি’ বা পিসিসি। এর মূল লক্ষ্য হলো পুঁজি বাজারে বিকল্প উপায়ে বিমা ঝুঁকি স্থানান্তরের সমাধানগুলোকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া।
সিঙ্গাপুরের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী গান কিম ইয়ং গত ২৫ জুন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস ইন সিঙ্গাপুর’-এর বার্ষিক নৈশভোজে এই নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বর্তমানে এমএএস-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মতে, প্রটেক্টেড সেল কোম্পানি বা পিসিসি কাঠামোটি মূলত একটি মূল প্রতিষ্ঠানের অধীনে আলাদা আলাদা ছোট বা স্বতন্ত্র সেলে সম্পদ ও দায়গুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে ভাগ করে রাখার সুবিধা দেয়। এর ফলে পুরো ব্যবস্থার সাধারণ অবকাঠামো একই থাকলেও, বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিগুলোকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে বিন্যাস করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী গান কিম ইয়ং তাঁর বক্তব্যে এই কাঠামোর সুবিধাগুলো ব্যাখ্যা করে বলেন, “এর চূড়ান্ত ফল হবে অনেক বেশি নমনীয়তা, কম পরিচালন খরচ এবং অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও কার্যকর উপায়ে বিমা ঝুঁকি স্থানান্তর।” তিনি আরও জানান যে, এই প্রস্তাবিত কাঠামোটি সাধারণ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘ক্যাপটিভ ইন্স্যুরেন্স’ বা নিজস্ব বিমা সমাধানের পথকে আরও সহজলভ্য করে তুলবে। একই সঙ্গে ‘ইন্স্যুরেন্স-লিংকড সিকিউরিটিজ’ বা বিমা-সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজের স্পন্সরদের জন্য পুঁজি বাজারে দ্রুত ও কম খরচে ঝুঁকি স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
এমএএস আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে একটি গণ-পরামর্শ বা ‘পাবলিক কনসালটেশন’ শুরু করবে, যেখানে এই খাতের অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। এরপরই এর বিস্তারিত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
সিঙ্গাপুরের এই নতুন উদ্যোগটি এমন এক সময়ে এল যখন পুরো এশিয়া অঞ্চল জুড়েই বিমার পরিধি বা কাভারেজ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এশিয়ায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ এখনও বিমার আওতার বাইরে রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যগত বিমা ও পুনর্বিমা (রিয়েন্সুরেন্স) ক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা যেমন রয়েছে, তেমনি বিকল্প ব্যবস্থারও বিকল্প নেই। গান কিম ইয়ংয়ের মতে, যে আর্থিক কেন্দ্রগুলো ঝুঁকি মূল্যায়নের দক্ষতা, পুনর্বিমা ক্ষমতা, বিকল্প পুঁজি এবং নমনীয় ঝুঁকি স্থানান্তর কাঠামোকে এক সুতোয় বাঁধতে পারবে, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে তারাই সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে। আর সিঙ্গাপুর এই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে।
মন্তব্য