ব্রেকিং নিউজ :
মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন

দেশ

অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ই জুন ২০২৬, ১:৩৪ এএম

অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক’ (এসএনবি)-এর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে অর্থ পাচার এবং আর্থিক সুশাসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে এই আমানতের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ, ২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে (দেশীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১২,৬৭৮ কোটি টাকা)।

তথ্যমতে, গত এক দশকে এটি বাংলাদেশিদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমানতের রেকর্ড। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারতে আমানতের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কমলেও, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্র তথা বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।

বৈশ্বিক অর্থপ্রবাহ ও সামগ্রিক পাচারের চিত্র

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডই বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের একমাত্র বা প্রধান মাধ্যম নয়। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটিসহ বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ মূলত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া এবং কেম্যান আইল্যান্ডসের মতো দেশে জমা হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, সুইস ব্যাংকের বাইরে এই দেশগুলোতে স্থানান্তরিত অর্থ হিসাব করলে গত দেড় বছরে বাংলাদেশ থেকে মোট অর্থ পাচারের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে থাকতে পারে।

বিগত ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের (২০০৯-২০২৩) শাসনামলে ব্যাপক অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পরবর্তী সময়ে একটি শ্বেতপত্র কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির তথ্যমতে, ওই সময়ে দেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বার্ষিক গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার) পাচার হয়েছে।

পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থ পাচার রোধ ও পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে এর আশানুরূপ প্রতিফলন না হওয়ায় এবং সম্প্রতি সুইস ব্যাংকের এই তথ্য সামনে আসায় তৎকালীন আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের ভূমিকা: সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুততম সময়ে অর্থ ফেরত আনার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন। বর্তমানে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিদেশে সম্পদ গড়ার বিষয়ে কিছু আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে।

সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের পর দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) বেশ কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে। সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং আসিফ মাহমুদসহ কয়েকজনের সুইজারল্যান্ড সফর ও তৎকালীন কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছে।

সমালোচকদের বক্তব্য: সমালোচকদের মতে, অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রকৃত অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এর ব্যবহার বেশি করেছে। এছাড়া ঢালাওভাবে বেসরকারি খাতের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি করায় দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তারা মনে করেন।

বর্তমান সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ করণীয়

বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাঁর একাধিক ভাষণে অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন এবং বাজেটেও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিশ্লেষক ও সাধারণ জনগণ দল-মত নির্বিশেষে সকল অর্থ পাচারকারীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে করণীয় বিষয়গুলো হলো:

দলনিরপেক্ষ তদন্ত: অর্থ পাচারকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকা উচিত নয়। তারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা বর্তমান ক্ষমতাসীন দল—যার সাথেই সম্পৃক্ত থাকুক না কেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

আইনি সংস্কার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বেসরকারি খাতের সুরক্ষা: ঢালাও মিডিয়া ট্রায়াল ও হয়রানি বন্ধ করে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে, যেন দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

বিগত দেড় দশক ধরে দেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ যদি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়, তবে তা বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মন্তব্য