খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা এবং তাঁর তিন মেয়ের জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীরপাড় সড়কে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজায় অংশ নিতে চারপাশের শত শত মানুষ নদীরপাড় সড়কে জড়ো হন, যা একপর্যায়ে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জানাজার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই নিহত শাহিনুর বেগম (৩৮), তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফার মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চারজনের কফিন যখন সারিবদ্ধভাবে রাখা ছিল, তখন উপস্থিত কেউই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। জানাজা শেষে মরদেহগুলো দাফনের উদ্দেশ্যে তাদের স্থায়ী ঠিকানা কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের শেষ বিদায় জানানো হবে।
হৃদয়বিদারক এই জানাজায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া, রায়পুর পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ফয়সাল, পৌর জামায়াতের আমির ফজলুল করিম, নায়েবে আমির কামাল উদ্দিন, রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ আরও অনেকে শরিক হন।
পাশাপাশি নিহত শাহিনুর বেগমের একমাত্র বেঁচে যাওয়া ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত, তাঁর বৃদ্ধ নানা দাদন মিয়া, মামা ছানা উল্লাহ ও চাচা জামাল হোসেন জানাজায় অংশ নেন। এই চারজনই বৃহস্পতিবার রাতে খবর পেয়ে কুমিল্লা থেকে রায়পুরে ছুটে আসেন। চোখের সামনে পুরো পরিবারকে হারিয়ে সিফাত এখন বাকরুদ্ধ।
জানাজা শেষে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওসি আশ্বাস দিয়ে বলেন, পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করছে এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য ও উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌর শহরের নদীরপাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে মা ও তাঁর তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার সময় তাঁদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পালানোর সময় অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদারকে (২৮) ধরে ফেলেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে ওই অভিযুক্ত যুবকও ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পুরো ঘটনার আকস্মিকতা ও নৃশংসতা এখনও স্থানীয়দের স্তব্ধ করে রেখেছে।
মন্তব্য