খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ১১:২৮ পিএম

আফ্রিকার তিন দেশে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এক জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরব। জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি), উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়িকায়া’ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই তিন দেশ থেকে আসা কোনো ব্যক্তিকে সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
সৌদি কর্তৃপক্ষের এই কঠোর সিদ্ধান্ত সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। এর ফলে পর্যটন ও কাজের ভিসার পাশাপাশি ওমরাহ পালনের জন্য ইস্যু করা ভিসার সুবিধাও স্থগিত থাকবে। শুধু তাই নয়, সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীই শুধু নন, যারা সৌদি আরবে পৌঁছানোর আগের ২১ দিনের মধ্যে কঙ্গো, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদানে অবস্থান করেছেন এবং অন্য কোনো তৃতীয় দেশের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট নিয়ে আসছেন, তাদের জন্যও সৌদি আরবের প্রবেশ ভিসা সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও ঝুঁকিতে থাকা আরও কয়েকটি আফ্রিকান দেশের নাগরিকদের জন্য বাড়তি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে ওয়িকায়া। এই তালিকায় রয়েছে রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া এবং কঙ্গো-ব্রাজিল। ইবোলা-আক্রান্ত বা ইবোলার ঝুঁকিতে থাকা এসব দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের সৌদি সীমান্তে কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে এবং বিশেষ নজরদারির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে ওয়িকায়া আশ্বস্ত করেছে যে ২০১৯ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ইবোলার কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। আগের সেই নিরাপদ পরিস্থিতি ধরে রাখতেই এই আগাম কড়াকড়ি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে প্রথম ইবোলা ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছিল। এই রোগটি কতটা মারাত্মক তা বোঝা যায় এর মৃত্যুর হার দেখলে, যা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। প্রথম শনাক্তের পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
আফ্রিকার বাইরেও সম্প্রতি এই ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে যা নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত বুধবার ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ফ্রান্সে প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আক্রান্ত ব্যক্তি একজন চিকিৎসক, যিনি ডিআরসিতে একটি মানবিক সহায়তা মিশনে কাজ করার সময় এই ভাইরাসে সংক্রমিত হন। ফ্রান্সে ফিরে আসার পর তাঁর শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে এবং বর্তমানে তাকে একটি বিশেষ কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপে এই ভাইরাসের সংক্রমণের পরই মূলত বিশ্বজুড়ে সীমান্তগুলোতে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে, যার অংশ হিসেবে সৌদি আরবও এই বড় সিদ্ধান্তটি নিল।
মন্তব্য