খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুন ২০২৬, ৪:১৬ পিএম

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নীলফামারী অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার সকালে লালমনিরহাট জেলার দোয়ানী পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছালে তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়। যদিও পরে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তার পানি ছিল ৫১ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার। পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে উজানের পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা বেড়ে ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটারে পৌঁছে। অর্থাৎ এই সময়ে পানির উচ্চতা ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।
তবে সকাল ৯টার দিকে পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। ওই সময় পানির উচ্চতা ৮ সেন্টিমিটার কমে ৫২ দশমিক ০২ সেন্টিমিটারে নেমে আসে। দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর নির্ধারিত বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার হওয়ায় সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে তিস্তার তীরবর্তী এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা ইতোমধ্যে আংশিকভাবে প্লাবিত হতে শুরু করেছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ইউনিয়নের কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত চরাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেনি। তিনি জানান, পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে পানির প্রবাহ কমতে শুরু করেছে। নদীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিকভাবে নদীর পানির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছে।
নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও পরবর্তী অবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—
| সময় | পানির উচ্চতা (সেন্টিমিটার) | অবস্থার পরিবর্তন |
|---|---|---|
| শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা | ৫১.৯৫ | প্রাথমিক পরিমাপ |
| শনিবার সকাল ৬টা | ৫২.১০ | ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি |
| শনিবার সকাল ৯টা | ৫২.০২ | ৮ সেন্টিমিটার হ্রাস |
| বিপৎসীমা | ৫২.১৫ | নির্ধারিত সীমা |
এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নদীর নাম | তিস্তা |
| পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র | দোয়ানী পয়েন্ট, লালমনিরহাট |
| বিপৎসীমা | ৫২.১৫ সেন্টিমিটার |
| সকাল ৯টার পানির উচ্চতা | ৫২.০২ সেন্টিমিটার |
| বিপৎসীমা থেকে ব্যবধান | ১৩ সেন্টিমিটার নিচে |
| ব্যারাজের খোলা জলকপাট | ৪৪টি |
| ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা | নিম্নাঞ্চলের কিছু অংশ |
| চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ | এখনো হয়নি |
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। নদীর পানির প্রবাহ ও উজানের অবস্থার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ নদী তীরবর্তী এলাকার অবস্থা পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।
মন্তব্য