মেঘনা তীরে যুবক মরদেহ উদ্ধার রহস্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় কথিত ডাকাত দলের হামলায় নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠার দুই দিন পর রিফাত (২৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে নরসিংদীর মেঘনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল থেকে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নরসিংদী সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কান্দাপাড়া জিরো পয়েন্ট এলাকার নদীতীরবর্তী একটি ঝোপঝাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত রিফাত নবীনগর উপজেলার থোল্লাকান্দি গ্রামের দাসপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মৃত মোস্তাক আহমেদের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার বিকেলে কয়েকজন কৃষক নদীর তীরে ছাগল চরাতে গিয়ে ঝোপের মধ্যে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা দ্রুত বিষয়টি নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে জানান। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহটি নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে নিহতের বোন মুক্তা বেগম মরদেহটি শনাক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, গত রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটার দিকে তাদের গ্রামের বাড়িতে একদল ডাকাত হামলা চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা গুলি চালালে রিফাত ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে তিনি জানান। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ডাকাত দল নিহত রিফাতের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে সঙ্গে নিয়ে যায় এবং পরে তা অন্যত্র ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

মুক্তা বেগম আরও জানান, ঘটনার পর থেকে পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে রিফাতের কোনো খোঁজ পাচ্ছিল না। পরে নদীতীরবর্তী এলাকায় মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। তার ধারণা, ডাকাতরা পরিকল্পিতভাবে মরদেহ দূরের নির্জন চরাঞ্চলে ফেলে রেখে ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

এদিকে নরসিংদী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সংঘটিত ঘটনার পর মরদেহটি নদীপথ ব্যবহার করে বা অন্য কোনো উপায়ে নরসিংদীর চরাঞ্চলে এনে ফেলে রাখা হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় এবং বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনায় নানা ধরনের আলোচনা চলছে। অনেকের ধারণা, নদীপথ ব্যবহার করে অপরাধীরা মরদেহ স্থানান্তর করে থাকতে পারে, যা পুরো ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। পুলিশ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা এই ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছে।

নিচে ঘটনার ধারাবাহিক সময়রেখা তুলে ধরা হলো—

সময়কালঘটনা
রোববার রাতনবীনগরের থোল্লাকান্দি গ্রামে ডাকাত দলের হামলার অভিযোগ ওঠে, রিফাত নিহত হন
ঘটনার পরমরদেহ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে
মঙ্গলবার বিকেলনরসিংদীর মেঘনা নদীতীরবর্তী এলাকায় মরদেহ দেখতে পান কৃষকরা
মঙ্গলবার সন্ধ্যানৌ-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে
পরবর্তীতেনিহতের বোন মরদেহ শনাক্ত করেন

পুরো ঘটনাটি এখনো রহস্যাবৃত অবস্থায় রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং মরদেহ স্থানান্তরের পদ্ধতি উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।