খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই মে ২০২৬, ১২:১১ এএম

রংপুরের আলোচিত তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ও তাঁর স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারার বৈবাহিক সম্পর্কের পুনরায় বিচ্ছেদ ঘটেছে। দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় তাঁদের এই দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটল। গত রমজান মাসের শেষলগ্নে অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের পূর্বমুহূর্তে তাঁদের মধ্যে এই চূড়ান্ত বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
Table of Contents
সাবিকুন্নাহার সারা গত শনিবার (৯ মে) গণমাধ্যমের কাছে বিচ্ছেদের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত রমজানের চাঁদরাতে আবু ত্বহা আদনান তাঁকে আইনগতভাবে তালাক প্রদান করেন। এর মাধ্যমে তাঁদের সংক্ষিপ্ত দ্বিতীয় দফার দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর আবু ত্বহা আদনান ও সাবিকুন্নাহার সারা দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও পূর্ববর্তী সম্পর্কের রেশ ধরে দুই পরিবারের সদস্যদের সম্মতিতে পুনরায় সংসার শুরু করলেও তা চার মাসের বেশি স্থায়ী হয়নি। গত অক্টোবর মাস থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কের টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদে রূপ নিল।
আবু ত্বহা আদনান ও সাবিকুন্নাহার সারার দাম্পত্য জীবনে অস্থিরতা নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগে গত বছরের ২১ অক্টোবর দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও অভ্যন্তরীণ মতভেদের জেরে তাঁদের মধ্যে প্রথমবার বিচ্ছেদ ঘটেছিল। প্রথম বিচ্ছেদের পর দুই পরিবারের মুরব্বি ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যস্থতায় সমঝোতার চেষ্টা চালানো হয়। সেই আলোচনার প্রেক্ষিতে এবং ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের কথা বিবেচনা করে তাঁরা পুনরায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
পরবর্তীতে ২ ডিসেম্বর এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁরা আবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন আশা করা হয়েছিল যে, তাঁরা পূর্বের ভুল বোঝাবুঝি কাটিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করবেন। তবে দ্বিতীয় দফার এই চেষ্টাও সফল হয়নি এবং চার মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আবু ত্বহা আদনান বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন।
আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ইউটিউবের মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি সমসাময়িক বিষয় ও ধর্মীয় বিষয়ের ওপর বক্তব্য প্রদান শুরু করেন। তাঁর বাচনভঙ্গি ও বিষয়ের ভিন্নতার কারণে খুব দ্রুত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে তাঁর পরিচিতি তুঙ্গে ওঠে ২০২৩ সালের জুন মাসের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
২০২৩ সালের ১০ জুন রংপুর থেকে রাজধানী ঢাকায় আসার পথে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে আবু ত্বহা আদনান, তাঁর দুই সঙ্গী এবং গাড়িচালকসহ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের এই ঘটনাটি দেশের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। দেশজুড়ে তাঁর সন্ধান চেয়ে দাবি জানানো হয়। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ আট দিন পর তিনি রংপুরে তাঁর প্রথম স্ত্রীর বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের পর জানানো হয় যে, তিনি ব্যক্তিগত মানসিক অস্থিরতা ও ধর্মীয় কিছু কারণে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশি তদন্তে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা তৃতীয় কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার পর তাঁর জনপ্রিয়তা ও তাঁকে নিয়ে কৌতূহল আরও বৃদ্ধি পায়।
আবু ত্বহা আদনানের দ্বিতীয় দফার এই বিচ্ছেদের খবরটি তাঁর অনুসারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ব্যক্তিগত জীবন ও ধর্মীয় বক্তা হিসেবে তাঁর অবস্থানের কারণে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে। সাবিকুন্নাহার সারার পক্ষ থেকে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও আবু ত্বহা আদনানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি।
পারিবারিক কলহ এবং মতাদর্শিক পার্থক্যের কারণেই এই বিচ্ছেদ ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। বর্তমানে আবু ত্বহা আদনান তাঁর নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রমে মনোনিবেশ করছেন এবং তাঁর প্রথম পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, সাবিকুন্নাহার সারা এই বিচ্ছেদের মাধ্যমে পুনরায় একক জীবনে ফিরে গেছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় এই তরুণ বক্তার ব্যক্তিগত জীবনের এই অস্থিরতা তাঁর ভক্তদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিমা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে তালাকনামা কার্যকর হওয়ার বিষয়টি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
মন্তব্য