৩৬ বছরেই দুই বিলিয়ন ডলারের মালিক টেইলর সুইফট

বিশ্বসংগীতের অন্যতম সফল শিল্পী টেইলর সুইফট তার আর্থিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ফোর্বসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩৬ বছর বয়সেই তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মাত্র দুই বছর আগে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ছিল ১.৬ বিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে কনসার্ট ট্যুর, অ্যালবাম বিক্রি, রয়্যালটি আয় এবং সংগীতসম্পদের মূল্য বৃদ্ধির ফলে তার সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গত ৩ জুন প্রকাশিত ফোর্বসের ‘আইকনোক্লাস্ট ৫০’ তালিকায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পর মাত্র তিন বছরের মধ্যে টেইলর সুইফট তার মোট সম্পদের পরিমাণ দ্বিগুণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এই অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তার বহুল আলোচিত ও রেকর্ড গড়া ‘ইরাস ট্যুর’ এবং তার পুরোনো অ্যালবামগুলোর পুনঃরেকর্ড করা সংস্করণের বাণিজ্যিক সাফল্য।

সংগীতজীবনের পাশাপাশি নিজের সংগীতসম্পদের মালিকানা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন এই গ্র্যামি বিজয়ী শিল্পী। গত বছর তিনি তার প্রথম ছয়টি অ্যালবামের স্বত্ব সফলভাবে পুনরায় অধিগ্রহণ করেন। এর ফলে তার সংগীত ক্যাটালগের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে রয়্যালটি আয়ের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফোর্বসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টেইলর সুইফটের বর্তমান সম্পদের বড় অংশ এসেছে তার সংগীত-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে। কনসার্ট ট্যুর এবং রয়্যালটি বাবদ তার আয় প্রায় ৮০ কোটি ডলার। অন্যদিকে তার সংগীত ক্যাটালগের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ কোটি ডলার। এছাড়া বিভিন্ন আবাসন ও রিয়েল এস্টেট সম্পদের মূল্য প্রায় ১১ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

টেইলর সুইফটের সম্পদের প্রধান উৎস

সম্পদের খাতআনুমানিক মূল্য
কনসার্ট ট্যুর ও রয়্যালটি আয়৮০ কোটি ডলার
সংগীত ক্যাটালগ৬০ কোটি ডলার
রিয়েল এস্টেট সম্পদ১১ কোটি ডলার
মোট আনুমানিক সম্পদ২০০ কোটি ডলার

টেইলর সুইফট ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ধারাবাহিকভাবে দুটি নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করেন। ‘টর্চার্ড পোয়েটস ডিপার্টমেন্ট’ এবং ‘লাইফ অব আ শোগার্ল’ শিরোনামের এই অ্যালবাম দুটি তার সাম্প্রতিক সংগীতযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি তার পূর্ববর্তী অ্যালবামগুলোর পুনঃরেকর্ড সংস্করণও বাজারে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে।

দুই বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হয়ে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে তিনি পপ তারকা রিয়ানাকে ছাড়িয়ে এই অবস্থানে উঠে আসেন।

ধনী সংগীতশিল্পীদের তুলনামূলক চিত্র

শিল্পীআনুমানিক সম্পদ
জে-জি২.৮ বিলিয়ন ডলার
টেইলর সুইফট২.০ বিলিয়ন ডলার

তবে সামগ্রিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী সংগীতশিল্পীর অবস্থানে এখনও পৌঁছাতে পারেননি টেইলর সুইফট। ফোর্বসের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২.৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে সেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন মার্কিন র্যাপার ও ব্যবসায়ী জে-জি।

তবুও টেইলর সুইফটের এই অর্জন সংগীতশিল্পের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ফোর্বস পূর্বেই উল্লেখ করেছে, তিনি ইতিহাসের প্রথম সংগীতশিল্পী যিনি কোনো খুচরা পণ্য, প্রসাধন, ফ্যাশন বা বৃহৎ ভোক্তা ব্র্যান্ডনির্ভর ব্যবসার ওপর নির্ভর না করে মূলত নিজের গান, অ্যালবাম, কনসার্ট এবং পারফরম্যান্স থেকে অর্জিত আয়ের ভিত্তিতে বিলিয়নিয়ারের মর্যাদা অর্জন করেছেন। সংগীতকেন্দ্রিক আয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সম্পদ তাকে সমসাময়িক বিনোদন জগতের অন্যতম প্রভাবশালী আর্থিক সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।