খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুলাই ২০২৬, ৫:৯ পিএম

দেশে হামের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে মোট ৭৭৩ শিশু। নতুন এই তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হাম-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর কারও ক্ষেত্রে এখনো নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়নি। তাদের মৃত্যু হামের উপসর্গ নিয়ে হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৮৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে এই সময়ের মধ্যে হাম এবং হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮৪ জনে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭৪ শিশু। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা ৬৯৯। অর্থাৎ নিশ্চিত ও সন্দেহজনক—দুই ধরনের রোগী মিলিয়ে একদিনেই আক্রান্ত হয়েছে ৭৭৩ শিশু।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাতেও রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৪৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৪৯৮ শিশু। ফলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গযুক্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭১০ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৩১৮ জন।
একই সময়ে মোট ৯৯ হাজার ২৪৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৯৫ হাজার ৫২৯ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অথবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের আওতায় আছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান, আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করলে রোগটির জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, সর্দি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগ শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য