খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নজিরবিহীন সামুদ্রিক অবরোধ ও সরাসরি সামরিক হামলার হুমকির মুখে লোহিত সাগরে নিজেদের গতিরোধ করে পথ পরিবর্তন করেছে সৌদি আরবের দুটি বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার। এশিয়ার দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন ও ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ‘জিন লং ইয়াং’ এবং ‘রোডোস’ নামের জাহাজ দুটি লোহিত সাগরের অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রবেশদ্বার ‘বাব এল-মান্দেব প্রণালি’ এড়িয়ে সুয়েজ খালের দিকে মোড় নিতে বাধ্য হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধের জট কাটতে না কাটতেই লোহিত সাগরের অল্টারনেটিভ বাণিজ্যিক রুটেও এমন অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও তেলের বাজারে তীব্র সংকটের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথি গোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিক নৌ-অবরোধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে। বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পরিবহন কোম্পানিগুলোকে পাঠানো এক সতর্ক বার্তায় তারা সৌদি আরবের যেকোনো সমুদ্রবন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। হুঁশিয়ারিতে বলা হয়, এই আদেশ অমান্য করে সৌদি বন্দরকেন্দ্রিক যাত্রা অব্যাহত রাখলে হুথিদের সামরিক সক্ষমতার সীমানায় আসা যেকোনো জাহাজকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
শিপ-ট্র্যাকিং ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে চীনের দিকে রওনা হওয়া বিশাল ট্যাংকার ‘জিন লং ইয়াং’ এবং ৭ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে ভারতগামী ‘রোডোস’—উভয় নৌযানই সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা এড়াতে বাব এল-মান্দেব প্রণালির ঝুঁকি না নিয়ে উত্তরের দিকে মোড় নিয়েছে। এছাড়া ইয়ানবু বন্দরে তেল খালাসের অপেক্ষায় থাকা ‘নিউ প্রাইম’ নামের অপর একটি ট্যাংকারও ওমান উপকূল থেকেই পথ পরিবর্তন করেছে।
লোহিত সাগরের সংযোগস্থল হুথিদের মিসাইল ও ড্রোন সীমানার মধ্যে পড়ায় বহুজাতিক নৌ-পরিবহন খাতে যুদ্ধঝুঁকি বিমা (War Risk Insurance) প্রিমিয়াম হু-হু করে বাড়ছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘অ্যামব্রে’ সৌদি আরবমুখী বা সেখান থেকে আসা সবধরনের জাহাজকে লোহিত সাগর দিয়ে ট্রানজিটের সিদ্ধান্ত জরুরিভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করার তাগিদ দিয়েছে।
নৌ-বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, বাব এল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহারে বিঘ্ন ঘটলে জাহাজগুলোকে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে উত্তমাশা অন্তরীপ (Cape of Good Hope) কিংবা দীর্ঘ ভূমধ্যসাগরীয় পথ ব্যবহার করতে হবে। এতে এশিয়ায় প্রতিটি চালান পৌঁছাতে অতিরিক্ত কয়েক সপ্তাহ সময় ও বিপুল জ্বালানি ব্যয় বাড়বে, যা পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এক নতুন অস্থিরতা ও মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
মন্তব্য