খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

সারাদেশে ফের উদ্বেগজনক হারে ছড়াতে শুরু করেছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর সংক্রমণ। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে এডিস মশার বিস্তার বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এতে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে নতুন করে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৩৮ জন রোগী।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরিস্থিতির এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রদত্ত তথ্য থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারানো রোগীটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঘনবসতিপূর্ণ এ রাজধানী নগরীতে এডিস মশার কামড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিত বর্জ্য জমা থাকা, জমে থাকা স্বচ্ছ পানি অপসারণে ঢিলেমি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে বলে মনে করছেন কীটতত্ত্ববিদরা।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে বেশ উদ্বেগজনক দৃশ্য চোখে পড়ে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সময়ে সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। আর সব মিলিয়ে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ১১ হাজার ১৯৫ জনে। বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরের পাশাপাশি ঢাকার প্রধান প্রধান হাসপাতালগুলোতে ক্রমাগত ডেঙ্গু রোগীর ভিড় বাড়তে থাকায় চিকিৎসা সেবা প্রদান ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে।
বর্ষার এ মৌসুমে বৃষ্টির পানি বাড়ির ছাদ, প্লাস্টিকের পাত্র, ডাবের খোসা, ড্রাম কিংবা অব্যবহৃত টায়ারে জমা হয়ে এডিস মশার আদর্শ প্রজননক্ষেত্র তৈরি করে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মশক নিধন অভিযানের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়েও সচেতনতা বাড়াতে হবে। জমে থাকা পানি দ্রুত ফেলে দেওয়া, তিন দিনের বেশি জল জমতে না দেওয়া, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং রাতে ও দিনে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
মন্তব্য