খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম

বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি ও বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের অন্যতম শক্তি হলো প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয়। বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই থেকে মে) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব থেকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচ্য ১১ মাসে সৌদি আরব থেকে মোট ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ (প্রায় ৫২৮ কোটি) মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। দেশের মোট প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের প্রায় ১৬ শতাংশই এসেছে এই একটি দেশ থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত থাকায় প্রতিবছরের মতো এবারও প্রবাসী আয়ের শীর্ষ স্থানটি তারা ধরে রেখেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে আসা রেমিট্যান্সের বড় অংশই আসছে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশ থেকে। বিশেষ করে শীর্ষ পাঁচটি দেশ থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬২ শতাংশ। রেমিট্যান্স আয়ের দিক থেকে সৌদি আরবের পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটি থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এসেছে ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া থেকে ৩২২ কোটি ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।
মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও উন্নত দেশগুলোতে প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যাংকগুলোতে ডলারের দর পুনর্নির্ধারণ, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কারণে প্রবাসী আয় প্রবাহে এমন গতি দেখা যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক ধারা বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনের রেমিট্যান্সের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, জুনের হিসাব যুক্ত হলে অর্থবছর শেষে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ আরও বড় অঙ্কে পৌঁছাবে।
মন্তব্য