খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে এক রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসের তিন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় তাঁদের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন।
চাকরি খোয়ানো তিন কর্মচারী হলেন— কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া ও আরিফ মিয়া এবং স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরা। তারা প্রত্যেকেই আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে ওই অফিসে কর্মরত ছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কলমাকান্দা উপজেলার রামনাথপুর পাগলা এলাকার একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এক রোহিঙ্গা নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট বানিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একইভাবে নেত্রকোনা সদর উপজেলাতেও অন্য এক রোহিঙ্গাকে এনআইডি কার্ড পাইয়ে দেওয়া হয়। এই জালিয়াতিতে নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় কর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
ঘটনার পরপরই ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মিললে কমিশন ওই তিন কর্মচারীকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় অফিসের কোনো স্থায়ী কর্মকর্তার গাফিলতি বা যোগসাজশ ছিল কি না এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, জেলার এনআইডি শাখা কেন্দ্রিক আরও কয়েকটি অনিয়ম ও জালিয়াতির খবর পাওয়া গেছে, যার তদন্ত বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে বরখাস্ত হওয়ার পর ক্ষোভে স্থানীয় এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চাকরিচ্যুত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়ার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানী সংবাদ পরিবেশনের জেরে সাংবাদিক ইবাদ হোসেনকে ফোনে হুমকি দেওয়া হলে তিনি নেত্রকোনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
হুমকির কথা স্বীকার করে কাঞ্চন মিয়া জানান, আকস্মিক চাকরি হারানোর মানসিক চাপে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানিয়েছেন, অভিযোগটির বিষয়টি পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য