খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় পরেছে স্পেন। কিন্তু ট্রফি জয়ের সেই ঐতিহাসিক রাতে স্প্যানিশ রক্ষণভাগের উদীয়মান তারকা পাউ কুবার্সির অনুভূতি ছিল বেশ জটিল ও দ্বিমুখী। একদিকে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের রোমাঞ্চ ও টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান ফুটবলারের স্বীকৃতি, অন্যদিকে নিজের ফুটবলীয় আইডল লিওনেল মেসিকে পরাজিত ও কাঁদতে দেখার সুপ্ত যন্ত্রণা—এই দুইয়ের দোলাচলেই কেটেছে ১৯ বছর বয়সি এই তরুণ ডিফেন্ডারের রাত।
বার্সেলোনার একাডেমি থেকে উঠে আসা কুবার্সি ম্যাচের পর এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে খোলামেলাভাবেই নিজের মানসিক অবস্থার কথা জানান।
বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির মতো কিংবদন্তির মুখোমুখি হওয়াটা কুবার্সির কাছে ছিল এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার মতো। ম্যাচের ড্রেসিংরুমের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি বলেন:
“আমি এর আগে কখনো মেসিকে এতো কাছ থেকে দেখিনি। ড্রেসিংরুমে যখন প্রথমবার ওনাকে অভিবাদন জানাই, মুহূর্তটি আমার কাছে রূপকথার মতো মনে হচ্ছিল। নিজেকেই বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না। তবে বাঁশি বাজার পর মাঠের লড়াইয়ে পুরোপুরি দলের জয়ের দিকেই মন দিয়েছিলাম।”
মেসির মতো ফুটবল ঈশ্বরের সঙ্গে একই মাঠে প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলার অভিজ্ঞতাকে ক্যারিয়ারের অমূল্য রত্ন হিসেবে দেখছেন এই তরুণ। তবে হৃদয়ের এক কোণে মেসির হারের কষ্টও লুকাননি তিনি:
“উনি আমার শৈশবের নায়ক, আমার আদর্শ। ওনাকে এভাবে পরাজিত হতে দেখতে বা কাঁদতে দেখতে কারোরই ভালো লাগার কথা না, আমারও লাগেনি। তবে পেশাদার জায়গায় দিনশেষে দেশের জন্য জয়টা আমাদের দরকার ছিল, যা আমাকে একই সাথে দারুণ আনন্দ দিচ্ছে।”
বিশ্বকাপজুড়ে স্পেনের রক্ষণভাগকে সামলানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছেন কুবার্সি। প্রবীণ ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপে কুবার্সির ঝুলিতে যা এলো:
পজিশন: সেন্টার-ব্যাক
অর্জন: স্পেনের জয়ী দলের অন্যতম মূল স্তম্ভ এবং টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় (Best Young Player)।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা: ক্লাব ও জাতীয় দলের সতীর্থ লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে এই ব্যক্তিগত ট্রফিটি জিতে নেন তিনি।
খেলার মাঠে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের প্রতি কুবার্সির এই গভীর শ্রদ্ধা ও বিনয় আরও একবার প্রমাণ করলো—ফুটবল শুধুই গোল বা ট্রফির খেলা নয়, এটি পারস্পরিক সম্মান ও আবেগের খেলা।
মন্তব্য