খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুলাই ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

স্বাধীনতা সংগ্রামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা এবং দলটির সাবেক দুই মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নগরীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রয়াত এই নেতার রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং আদর্শিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন দলের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের জনসংযোগবিষয়ক সম্পাদক শরিফুল কবির স্বপন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন খান জকি, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল, ওবায়দুর রহমান চুন্নু ও মীর্জা মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মনির হোসেন, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সেলিম, জাসদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাজী ইদ্রিস ব্যাপারী, ঢাকা মহানগর পূর্বের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, জাতীয় যুব জোটের সহ-সভাপতি শুভংকর দে বাপ্পা এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাশিদুল হক ননীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
বক্তারা বলেন, ষাটের দশকে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে। তিনি সে সময় ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন এবং ১৯৬৯ সালে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতার জন্য ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর শ্রমিক আন্দোলন, গণতান্ত্রিক রাজনীতি এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিলেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক জোট, জাতীয় শ্রমিক জোট এবং জাসদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও বক্তারা স্মরণ করেন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চু ব্যক্তিগত জীবনেও আদর্শনিষ্ঠ ও সাদাসিধে ছিলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ব্যক্তিগত সম্পদ বা সুবিধা অর্জনের চেয়ে রাজনৈতিক আদর্শ, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী এই নেতা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
স্মরণসভায় বক্তারা বর্তমান জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, দেশ ও রাজনীতি সম্পর্কে তাঁদের দলীয় মূল্যায়নের আলোকে সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। একই সঙ্গে তাঁরা জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলা, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং দণ্ডাদেশের সমালোচনা করেন। বক্তাদের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁদের বক্তব্যে আরও বলা হয়, শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত মামলায় ইনুকে নতুন করে যুক্ত করার পদক্ষেপেরও তাঁরা বিরোধিতা করছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র এবং অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থা রক্ষার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁরা জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মুক্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দলীয় আদর্শ বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক কর্মসূচি জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্মরণসভা শেষে প্রয়াত সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। তাঁর কর্মময় জীবন, রাজনৈতিক আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধে অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নেতারা আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য