খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শতবর্ষী মূল্যবোধ ও সামাজিক সৌহার্দ্য ক্ষুণ্ন করে একটি জামে মসজিদের প্রধান চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া নির্মাণ করার নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে উপাসনালয়ে যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ করে দেওয়ায় দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়াকান্দি দক্ষিণপাড়া এলাকার বাইতুল আমান জামে মসজিদে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গ্রামের অধিবাসী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের একক সিদ্ধান্তে মূল যাতায়াত ব্যবস্থা অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় মুসল্লি ও গ্রামবাসীর।
এলাকাবাসীর বরাতে জানা যায়, ১৯৮২ সালে পারিবারিকভাবে তিন ভাই—শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম এবং মনির হোসেন সুনির্দিষ্ট সম্মতির ভিত্তিতে স্থানীয় এই মসজিদের নামে ৩ শতাংশ জমি আনুষ্ঠানিকভাবে দান করেছিলেন। পরবর্তীতে জমির সীমানা ও রেকর্ডপত্র সংশোধনকালে শফিকুল ও মনির হোসেন প্রবাস ও পারিবারিক তহবিল থেকে অতিরিক্ত আরও ১ শতাংশ জমি সংযোজন করেন। দান করা সেই জমিতেই এলাকার সর্বসাধারণের আর্থিক সহায়তায় মসজিদটির আধুনিক পাকা অবকাঠামো গড়ে ওঠে এবং দীর্ঘ চার দশক ধরে সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় হয়ে আসছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর ধরে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মসজিদ প্রাঙ্গণের অবকাঠামোগত বা সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কোনো সংস্কার কাজ করতে দিচ্ছিলেন না। ইতিপূর্বে সীমানায় থাকা ফলজ ও কাঠজাতীয় গাছ কেটে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার প্রাতঃকালে স্থানীয়রা মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে দেখতে পান, মূল গেট ও যাতায়াতের প্রবেশদ্বার বরাবর বাঁশের শক্ত প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।
মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইদ্রিস আলী প্রধান জানান, তিন ভাইয়ের দান করা জমিতেই পুরো মসজিদ দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু অতি সম্প্রতি রফিকুল ইসলাম অনভিপ্রেতভাবে দাবি তোলেন যে মূল ভবনের সামান্য কিছু অংশ তাঁর নিজস্ব জায়গায় পড়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক বসলেও কোনো ফল আসেনি; বরং তিনি গায়ের জোরে চলাচলের পথটি বন্ধ করে দেন। একই প্রসঙ্গে পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক সাহানুর আলম আক্ষেপ প্রকাশ করে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সব ধরনের অভিযোগ খণ্ডন করে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি সম্পূর্ণ নিজ মালিকানাধীন জমিতেই বেড়া দিয়েছেন এবং কোনো ওয়াকফ করা জায়গায় হস্তক্ষেপ করেননি। উল্টো তাঁর অভিযোগ, নকশা পরিবর্তন করে মসজিদের স্থাপনা তাঁর ব্যক্তিগত সীমানার ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য তাঁকে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি ইতোমধ্যেই স্থানীয় থানায় আইনি সুরক্ষার জন্য একটি লিখিত ডায়েরি জমা দিয়েছেন।
বিষয়টি নজরে আনলে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, কোনো উপাসনালয় বা সাধারণ জনগণের চলাচলের পথ বন্ধ করার আইনি সুযোগ নেই। খুব দ্রুতই উভয় পক্ষকে ডেকে আলোচনার ভিত্তিতে একটি সুরাহা করা হবে।
মন্তব্য