খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ৬:২৯ পিএম

কক্সবাজারের রামুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেটকার থেকে ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সরকারি পরিচয়ের আড়াল ব্যবহার করে মাদক পাচারের অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় গাড়িটির ড্যাশবোর্ডের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ইয়াবার চালানটি উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের রামু উপজেলার জোয়ারিনালা ইউনিয়নের রাবার বাগান এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অবস্থান নেয় এবং সন্দেহজনক যানবাহনের ওপর নজরদারি শুরু করে।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, তাদের কাছে তথ্য ছিল—কক্সবাজার শহর থেকে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র প্রাইভেটকারে করে ইয়াবার একটি চালান ঢাকার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সেই তথ্য যাচাইয়ের পর মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করা হয়।
একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেটকারকে সন্দেহ হলে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু গাড়িচালক নির্দেশ অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অভিযানকারী দল গাড়িটির পিছু নেয় এবং কিছু দূর ধাওয়া করার পর সেটিকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটক করা প্রাইভেটকারে থাকা তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শালুকিয়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে সাব্বির হোসেন (৩৬), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাউ এলাকার মৃত শহীদুল ইসলাম সবুজের মেয়ে সীমা ইসলাম (২২) এবং ঢাকার দারুসসালাম থানার দক্ষিণ বিশিল এলাকার শাকিল মৃধার স্ত্রী উর্মি আক্তার ঊষা (১৮)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সোমেন মণ্ডল জানান, গাড়িটি আটকের পর সেখানে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা নিজেদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার পরিচিত বলে দাবি করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে তাদের দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরে প্রাইভেটকারটিতে তল্লাশি চালানো হলে ড্যাশবোর্ডের ভেতরে লুকানো অবস্থায় ৬ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে গাড়িতে সরকারি স্টিকার ব্যবহার করা হয়েছিল।
অভিযানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদক পাচারকারীরা বর্তমানে নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। কখনো গাড়িতে গোপন কুঠুরি তৈরি করে, আবার কখনো সরকারি বা প্রভাবশালী পরিচয়ের ভুয়া ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে মহাসড়ক, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উদ্ধার করা ইয়াবা, জব্দ করা প্রাইভেটকার এবং আটক তিনজনের বিরুদ্ধে রামু থানায় মামলা করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কক্সবাজার দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে ইয়াবা পাচারকারীরা বিভিন্ন পথ ও কৌশল ব্যবহার করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে মাদক পৌঁছানোর চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এসব চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত নতুন কৌশল শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য