খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুলাই ২০২৬, ৫:২২ পিএম

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক অন্তঃসত্ত্বা প্রাথমিক স্কুলশিক্ষিকা। সন্তান প্রসবের জন্য অটোরিকশায় করে হাসপাতালে যাওয়ার পথে একটি বেপরোয়া ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অটোরিকশায় থাকা ওই নারী মারাত্মকভাবে জখম হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে ও তাঁর গর্ভের সন্তানকে মৃত ঘোষণা করেন। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মায়ের সাথে চিরতরে হারিয়ে গেল এক নিষ্পাপ প্রাণ।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাজেক ইউনিয়নের চাম্পাতলী এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত সুমন্তি চাকমা (৩০) সাজেক ইউনিয়নের চাপ আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন্তি চাকমা সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় ঘনিয়ে আসায় দীর্ঘদিন ধরে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন। আজ সকালে প্রসববেদনা ও শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে স্বজনেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে যাওয়ার সময় চাম্পাতলী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ডাম্প ট্রাক তাদের অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে এবং সুমন্তি চাকমা মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত পান।
দুর্ঘটনার পর পরই আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীরা উদ্ধারকাজে হাত বাড়ান। তাঁরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রক্তাক্ত সুমন্তি চাকমাকে উদ্ধার করে দ্রুত খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সুমন্তি ও তাঁর গর্ভস্থ সন্তানকে মৃত ঘোষণা করেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা এই বেদনাদায়ক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, সুমন্তি চাকমা অত্যন্ত নিষ্ঠাবান শিক্ষক ছিলেন। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা অবস্থায় এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার বিষয়ে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় এক নারী স্কুলশিক্ষিকা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে তাঁরা পরে নিশ্চিত হয়েছেন।
পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘাতক ট্রাকটিকে জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই চালক ও হেলপার গাড়ি ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় সাজেক থানায় একটি নিয়মিত সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একটি নতুন জীবনের আগমনকে কেন্দ্র করে যে পরিবারটিতে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ ও মাতম।
মন্তব্য