মোহালিতে প্রেমঘটিত হত্যাকাণ্ডে তরুণীর মৃত্যু

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের Punjab–এর Mohali শহরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সহিংস ঘটনায় এক তরুণীর মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও শোক বিরাজ করছে।

নিহত তরুণীর নাম ডিম্পল এবং অভিযুক্ত যুবকের নাম হরবিন্দর মান, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘হ্যারি’ নামে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারা দুজনই একই প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করার কারণে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং বিচ্ছেদের পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হ্যারি হঠাৎ করেই অফিসে প্রবেশ করেন। তখন ডিম্পল নিজের ডেস্কে কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে ডিম্পলের ওপর আক্রমণ চালান। তরুণী প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও তাকে চুল ধরে টেনে এনে বারবার আঘাত করা হয়।

অফিসের সহকর্মীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হামলার তীব্রতায় ডিম্পল মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও আক্রমণ থামেনি বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

ঘটনার পর অফিসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কর্মীরা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকেই উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা ডিম্পলকে মৃত ঘোষণা করেন, তবে হ্যারির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, সম্প্রতি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। পুনর্মিলনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি চরম সহিংস আচরণে লিপ্ত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করেছে।

নিহত ও অভিযুক্ত উভয়ের পরিবার Patiala এলাকার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ উদঘাটনের জন্য মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, বার্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।

ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা নিচে তুলে ধরা হলো—

সময়ঘটনা
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকেঅভিযুক্ত ব্যক্তি অফিসে প্রবেশ করেন
কিছুক্ষণ পরডিম্পলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়
এর পরপরইছুরি দিয়ে একাধিকবার আঘাত করা হয়
কিছু সময় পরেডিম্পল পালানোর চেষ্টা করেন, আবার হামলা হয়
পরবর্তী মুহূর্তেডিম্পল ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন
এর কিছুক্ষণ পরঅভিযুক্ত আত্মহত্যার চেষ্টা করেন
রাতের দিকেপুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে পুরো এলাকায় এ ঘটনার কারণে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সহকর্মীদের মধ্যেও নিরাপত্তা ও কর্মস্থলের মানসিক চাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।