খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জানুয়ারি ২০২৬, ২:৪৫ এএম

ভারতের মহারাষ্ট্রের রাজনীতি ও জনমনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে। বুধবার সকালে পুনে জেলার বারামতি বিমানবন্দরের সন্নিকটে একটি ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ পাঁচজন। এই বিয়োগান্তক ঘটনায় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে বিমানবালা পিংকি মালির শেষ ফোনালাপ, যা তাঁর বাবা শিবকুমারের হৃদয়ে এক চিরস্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।
মুম্বাইয়ের ওরলির বাসিন্দা পিংকি মালি ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং দায়িত্বশীল একজন পেশাদার। দুর্ঘটনার আগে শেষবারের মতো তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সেই কথোপকথনে পিংকি জানিয়েছিলেন, “বাবা, আমি অজিত পাওয়ারের সঙ্গে বারামতি যাচ্ছি। তাঁকে নামিয়ে দিয়ে আমি নান্দেদে যাব। কাল কথা হবে।” উত্তরে বাবা শিবকুমার বলেছিলেন, কাজ শেষ হওয়ার পর পরের দিন তাঁরা বিস্তারিত কথা বলবেন। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই ‘কাল’ আর আসেনি। শিবকুমার অত্যন্ত ভেঙে পড়ে আর্তনাদ করে বলেন, “আমি আমার মেয়েকে হারিয়েছি। আমি শুধু চাই আমার মেয়ের মরদেহ যাতে মর্যাদার সঙ্গে শেষবিদায় জানাতে পারি।”
দিল্লির ‘ভিএসআর ভেঞ্চারস’-এর মালিকানাধীন লিয়ারজেট ৪৫ (ভিটি-এসএসকে) মডেলের বিমানটি বুধবার সকালে মুম্বাই থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে পুনে জেলায় আয়োজিত চারটি জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। ফ্লাইটের সময়সূচী এবং দুর্ঘটনার তথ্য নিচে সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য ও বিবরণ |
| বিমান মডেল | লিয়ারজেট ৪৫ (ভিটি-এসএসকে) |
| মালিকানা | ভিএসআর ভেঞ্চারস, দিল্লি |
| যাত্রার সময় | সকাল ৮টা ১০ মিনিট (মুম্বাই থেকে) |
| রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন | সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট |
| বিধ্বস্ত হওয়ার সময় | সকাল ৮টা ৫০ মিনিট |
| ঘটনাস্থল | বারামতি বিমানবন্দরের কাছে, পুনে |
| তদন্তকারী সংস্থা | এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) |
উড়োজাহাজে থাকা পাঁচজন আরোহীর কেউই বেঁচে নেই। নিহতরা হলেন:
১. অজিত পাওয়ার: মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী।
২. বিদীপ যাদব: উপমুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
৩. পিংকি মালি: বিমানবালা।
৪. সুমিত কাপুর: প্রধান পাইলট।
৫. শাম্ভবী পাঠক: সহ-পাইলট।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, অবতরণের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও অস্পষ্ট। তবে কারিগরি ত্রুটি নাকি আবহাওয়াজনিত কোনো সমস্যা এর পেছনে দায়ী, তা খতিয়ে দেখতে দিল্লি থেকে ‘এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’র (এএআইবি) একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যে পুনে পৌঁছেছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেছেন।
মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে অজিত পাওয়ারের এই প্রয়াণ এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি পিংকি মালির মতো তরুণ কর্মীদের অকাল মৃত্যু তাঁদের পরিবারের জন্য নিয়ে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি। পুরো দেশ এখন এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য