ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার একটি সড়কের পাশ থেকে আগুনে পোড়া অবস্থায় এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার ফজিলপুর গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত নারী নাসিমা আক্তার (৩৬), যিনি রানীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং আবদুল্লাহর স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল প্রায় আটটার দিকে হরিপুর উপজেলার ফজিলপুর গ্রামের একটি সড়কের পাশে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি নাসিমা আক্তারের বলে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করে।
দুপুরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মরদেহের মুখের এক পাশ এবং পিঠের কিছু অংশে আগুনে পোড়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, নাসিমা আক্তার রোববার তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে হরিপুর উপজেলার মহেন্দ্রগাঁও গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে তিনি একাই ওই বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাননি।
পরদিন সকালে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে ফজিলপুর গ্রামে একটি সড়কের পাশে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে যান এবং মরদেহ শনাক্ত করেন।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | নাসিমা আক্তার (৩৬) |
| স্বামীর নাম | আবদুল্লাহ |
| স্থায়ী ঠিকানা | হোসেনগাঁও গ্রাম, রানীশংকৈল উপজেলা, ঠাকুরগাঁও |
| পারিবারিক অবস্থা | তিন সন্তানের জননী |
| আত্মীয়ের বাড়ির অবস্থান | মহেন্দ্রগাঁও গ্রাম, হরিপুর উপজেলা |
| নিখোঁজ হওয়ার সময় | রোববার সন্ধ্যা |
| মরদেহ উদ্ধারের স্থান | ফজিলপুর গ্রাম, হরিপুর উপজেলা |
| মরদেহ উদ্ধারের সময় | সোমবার সকাল |
| মরদেহের অবস্থা | মুখের এক পাশ ও পিঠের কিছু অংশ আগুনে পোড়া |
| পরবর্তী ব্যবস্থা | ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে |
হরিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানান, মরদেহের কিছু অংশে আগুনে পোড়ার চিহ্ন থাকায় হত্যার পর মরদেহে আগুন লাগিয়ে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি প্রাথমিক ধারণা মাত্র। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল কি না, সে বিষয়েও তখন নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
