সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামে রক্তমাখা চিঠির মাধ্যমে ডাকাতির হুমকির ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে গ্রামে এ ধরনের চিঠি পাঠানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে শনিবার (১৬ মে) গভীর রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু। তিনি গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে তাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস প্রদান করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকুয়াপাড়া গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের ঘটনার পাশাপাশি ‘রঘু ডাকাত’ নাম ব্যবহার করে গত চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে অন্তত ১৫টি বাড়িতে হুমকিমূলক চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদের বাড়িতে পাঠানো একটি চিঠিতে রক্তের দাগ পাওয়া যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কজনক করে তোলে।
চিঠির বক্তব্য অনুযায়ী, একটি বাড়িতে সরাসরি ডাকাতির হুমকি দিয়ে লেখা ছিল— “আগামীকাল আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, তাই দরজা খোলা রাখবেন। না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস।” চিঠির শেষে ‘ইতি রঘু ডাকাত’ লেখা ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে লকার ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি প্রায় দুই লাখ টাকার একটি ষাঁড় গরু চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায়। এছাড়া একাধিক বাড়িতে গ্রিল কেটে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার কারণে এলাকার মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং অনেকেই রাতে জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
কোরবানির ঈদ সামনে থাকায় গবাদিপশু চুরির আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয় খামারিরা জানিয়েছেন। অনেকেই নিজেদের গরু-ছাগল রক্ষায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
ঘটনাগুলোর একটি সারসংক্ষেপ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো—
| ঘটনাসমূহের ধরন | বর্ণনা | আনুমানিক ক্ষতি/প্রভাব |
|---|---|---|
| চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার | কয়েকটি বাড়িতে ব্যবহার করে চুরি সংঘটিত | লকার ভাঙা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট |
| হুমকিমূলক চিঠি | ‘রঘু ডাকাত’ নামে ১৫টি বাড়িতে চিঠি | গ্রামে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা |
| রক্তমাখা চিঠি | আবু সাঈদের বাড়িতে পাওয়া যায় | আতঙ্ক বৃদ্ধি |
| গবাদিপশু চুরি | একটি ষাঁড় গরু চুরি | প্রায় দুই লাখ টাকা ক্ষতি |
| গ্রিল কেটে চুরি | একাধিক বাড়িতে মোবাইল ও জিনিসপত্র চুরি | সম্পদ হারানো ও উদ্বেগ |
পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। একাধিক পুলিশ দল মাঠে কাজ করছে। গ্রামবাসীর নিরাপত্তায় লাঠি, টর্চলাইট ও বাঁশি সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ সমন্বিতভাবে কাজ করে গ্রামকে নিরাপদ রাখতে উদ্যোগ নিচ্ছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
