খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৬:৫৩ পিএম

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এসব ফ্লাইট চট্টগ্রামে নামার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে পুনরায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে যায়।
আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। অবতরণ করতে না পারা তিনটি ফ্লাইটের মধ্যে দুটি ছিল আন্তর্জাতিক এবং একটি অভ্যন্তরীণ রুটের। তবে চট্টগ্রাম থেকে নির্ধারিত সব ফ্লাইটই ছেড়ে গেছে। যদিও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে অধিকাংশ ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হয়েছে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টানা ভারী বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচলে সাময়িক সমস্যা দেখা দেয়।
তিনি জানান, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-৩৫০ নম্বর ফ্লাইটটি আবুধাবি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে এসেছিল। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় সেটি চট্টগ্রামে অবতরণ করতে পারেনি। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইটটিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানো হয়।
একই কারণে শারজাহ থেকে চট্টগ্রামগামী এয়ার অ্যারাবিয়ার জি-৯-৫২৬ ফ্লাইটটিও চট্টগ্রামে নামতে না পেরে ঢাকায় অবতরণ করে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১২১ নম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম ফ্লাইটটিও নির্ধারিত সময়ে চট্টগ্রামে অবতরণ করতে না পেরে আবার ঢাকায় ফিরে যায়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল। এমন পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজ ওঠানামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে ফ্লাইট পরিচালনা আবার স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রামে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি সোমবার অতি ভারী বর্ষণে পরিণত হয়। সোমবার দিনভর বৃষ্টির পর রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে। মঙ্গলবার সকালেও চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সড়ক ও বিমান যোগাযোগেও।
আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফ্লাইট পরিচালনা সীমিত রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মন্তব্য