দেশে হামের সংক্রমণ ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৫ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম এবং হামের উপসর্গে মোট ৮৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ৯৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৩৫ জন।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ার খবর বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণ থেকে সহজেই অন্যের মধ্যে ছড়াতে পারে। বিশেষ করে টিকাদান থেকে বাদ পড়া শিশুদের সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে দানা ওঠা—হামের সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হয়ে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাগুলোও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হামের উপসর্গ দেখা দিলে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা রাখা, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর মোট সংখ্যা ৮৩১। এর মধ্যে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৫ এবং হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৭৩৫। গত ২৪ ঘণ্টায় যোগ হয়েছে আরও তিনটি মৃত্যুর ঘটনা এবং নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৫ জন রোগী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও শিশুদের জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে দানা ওঠার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলমান সংক্রমণের মধ্যে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









