জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ৫:৫৭ পিএম

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনায় মশাবাহিত এই রোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৫৩৪ জন রোগী।
বুধবার (২৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। অন্য দুজনের মধ্যে একজন বরিশাল বিভাগে এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নতুন এই তিন মৃত্যু নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। একই সময়ে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১৪ হাজার ৬৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এক দিনে ৫৩৪ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ডেঙ্গু সংক্রমণ এখনো দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের একটি বড় অংশ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে—এমন নয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা, বয়স, ঝুঁকিপূর্ণ কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে কি না এবং চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অস্বাভাবিক রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, ডাবের খোসা কিংবা বিভিন্ন ধরনের ছোট পাত্রে পানি জমে থাকলে সেগুলো এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে। তাই নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার করা এবং কোথাও পানি জমে থাকতে না দেওয়া সংক্রমণ প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু সিটি করপোরেশন বা সরকারি সংস্থার অভিযান চালালেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতেও নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যু এবং ১৪ হাজার ৬৯০ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য ডেঙ্গু পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষ করে এক দিনে ৫৩৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, যথাযথ চিকিৎসা এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য