জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৫ পিএম

বিএনপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্ব ও চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের জের ধরে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং তাঁর সহযোগীদের দেওয়া সাম্প্রতিক অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত এক সুসংগঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জ জেলায় স্থায়ীভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তিনি শিল্পাঞ্চলটিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁকে কঠোর হাতে প্রতিহত করারও আলটিমেটাম দিয়েছেন বিএনপি নেতারা।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র মিশনপাড়ার হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের ভবনের সামনে একত্রিত হন দলটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। সেখান থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক ধরে এগোতে থাকে। পথিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চাষাঢ়া মোড় এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব এলাকা প্রদক্ষিণ করে শহরের ২ নম্বর রেলগেট চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভের সমাপ্তি ঘটে। মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের হাজার হাজার নেতাকর্মী এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
সমাবেশে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতারা এনসিপিকে একটি ‘কৌশলী বাণিজ্যিক গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বক্তাদের দাবি, বিগত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক চিত্র বদলে গেলে এনসিপির কতিপয় সুবিধাবাদী নেতা সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে অনৈতিক পন্থায় সুবিধা হাসিল এবং অর্থ উপার্জনে মেতে উঠেছেন। তাঁদের থেকে কোনো প্রকার গঠনমূলক কিংবা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ আশা করা যায় না।
মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এনসিপির শীর্ষ নেতাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। টিপু তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন, “বাংলাদেশের কোটি সাধারণ মানুষের আস্থা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক তারেক রহমান। তাঁর মতো জ্যেষ্ঠ ও পরিপক্ক রাজনীতিককে নিয়ে মন্তব্য করার আগে এনসিপি নেতাদের নিজেদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও ইতিহাস ভালোভাবে জানা উচিত। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজপথের ত্যাগ, নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং কোটি সমর্থকের আস্থা অর্জন করেই তারেক রহমান আজ দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য স্থানে উঠে এসেছেন।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অপরাজনীতি, চাঁদাবাজি কিংবা সস্তা নাটকের কৌশল পরিহার করে নিজেদের সীমানার মধ্যে অবস্থান করুন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মনগড়া কুৎসা রটনা বন্ধ না করা হলে সাধারণ সচেতন জনগোষ্ঠীই রাজপথে এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে।”
অন্যান্য বক্তারা তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৭ বছর জুড়ে স্বৈরাচারী শাসনের মুখোমুখি হয়ে পুলিশি নির্যাতন, হামলা, মামলা ও রক্তক্ষয়ী রাজপথের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অস্তিত্ব ধরে রেখেছে বিএনপি। কোনো ভুঁইফোঁড় সংগঠনের প্ররোচনা, অশালীন মন্তব্য বা মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে তারেক রহমান কিংবা বিএনপির ত্যাগী ভাবমূর্তিকে জনগণের চোখ থেকে আড়াল করা যাবে না।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দলীয় সর্বসম্মতিক্রমে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, নারায়ণগঞ্জের মাটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জন্য সমস্ত রাজনৈতিক ও সাধারণ পথ বন্ধ করা হলো। ভবিষ্যতে তিনি এই জেলায় আসার দুঃসাহস দেখালে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সাধারণ জনগণ তাঁকে রাজপথেই রুখে দেবে।
উক্ত উত্তপ্ত বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যৌথ আহ্বায়ক ফতেহ রেজা রিপন, আনোয়ার হোসেন আনু, সিনিয়র সদস্য আওলাদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ এবং সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা সহ জেলা ও থানা পর্যায়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য