জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা হল্ট স্টেশনে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। মাত্র চার বছর বয়সী অবুঝ শিশুসন্তানকে প্ল্যাটফর্মের আসনে বসিয়ে রেখে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন নিলুফা খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) গভীর রাতে এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনাটি ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নিলুফা খাতুন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁর পৈতৃক নিবাস একই উপজেলার দর্শনার ডিহি কৃষ্ণপুর গ্রামে।
স্টেশনে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে আনুমানিক চার বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে দর্শনা হল্ট স্টেশনে আসেন নিলুফা। গভীর রাতে ট্রেন আসার অপেক্ষায় প্ল্যাটফর্মে ঘোরাঘুরি করছিলেন তিনি। রাত ১২টা নাগাদ একটি যাত্রীবাহী ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢোকার মুখে হঠাৎ করে শিশুটিকে ট্রেনের গতিপথ থেকে নিরাপদ দূরত্বে একটি বেঞ্চে বসিয়ে দেন নিলুফা। এর পরপরই তিনি দ্রুত দৌড়ে গিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে লাইন ধরে ঝাঁপ দেন। ট্রেনের তীব্র ধাক্কায় তিনি রক্তাক্ত ও মারাত্মক আহত হয়ে দূরে ছিটকে পড়েন।
দুর্ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথেই স্টেশনে থাকা যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা গুরুতর আহত নিলুফাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য দর্শনার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে মায়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতি হলেও অবুঝ শিশুটি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।
পারিবারিক সূত্র ও প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিলুফা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে জটিল শারীরিক ও মানসিক নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। অনেক দিন ধরে চিকিৎসা করানো সত্ত্বেও কোনো শারীরিক উন্নতি না হওয়ায় গভীর হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। মানসিক এই যন্ত্রণা ও হতাশার মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি এই চরম ও আত্মঘাতী পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দর্শনা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়েই রেলওয়ে পুলিশের একটি বিশেষ টিম হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তাঁর স্বামী ও স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। মায়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর চার বছরের শিশুটিকে পুলিশের নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহতের মরদেহ এবং শিশুটিকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য