জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ও বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া নতুন সামরিক সমীকরণের কারণে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ডের (ইউকম) প্রধান পেন্টাগনের সদর দপ্তরে পাঠানো এক জরুরি ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্মারকে সাফ জানিয়েছেন যে, বর্তমান সামরিক সম্পদ দিয়ে একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের আকাশসীমা রক্ষা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ডের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি জরুরি ভিত্তিতে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে আরও একটি গাইডেড-মিসাইল ‘ডেস্ট্রয়ার’ যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
আমেরিকান প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার বরাতে এই উদ্বেগজনক তথ্যের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউকম প্রধান পেন্টাগনকে লিখিতভাবে সতর্ক করেছেন যে, তাঁর বহরে বাড়তি যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ করা না হলে এক অবধারিত কিন্তু কঠিন দ্বিমুখী সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। সেক্ষেত্রে সামরিক কর্তৃপক্ষকে বেছে নিতে হবে—তারা কি মার্কিন করদাতাদের অর্থ ও শক্তিতে তৈরি প্রযুক্তি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ ইসরায়েলকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা দেবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের (ইউএস হোমল্যান্ড) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রাখবে।
ভূরাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড মূলত ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা, ইউরোপীয় আকাশসীমা এবং সংলগ্ন সমুদ্র অঞ্চলে ওয়াশিংটনের কৌশলগত সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এই কমান্ডের অধীনে বর্তমানে স্পেনের রোটা ঘাঁটিতে পাঁচটি অত্যন্ত আধুনিক ডেস্ট্রয়ার নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত দুটি যুদ্ধজাহাজ সার্বক্ষণিকভাবে ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগর এলাকায় টহল দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের থেকে আসা দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্ষিপ্রগতির আত্মঘাতী ড্রোন ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আঘাত হানার আগেই তা মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দেওয়াই এই ডেস্ট্রয়ারগুলোর প্রধান দায়িত্ব।
একই সময়ে ইউকমের ওপর আরেকটি গুরুদায়িত্ব ন্যাস্ত রয়েছে। ন্যাটোভুক্ত অঞ্চলে রাশিয়ার যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য আগ্রাসন বা অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং রুশ দূরপাল্লার কৌশলী ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি থেকে আমেরিকান মূল ভূখণ্ডকে সুরক্ষিত রাখাও তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু টানা কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে দিনরাত একের পর এক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ড্রোন ও মিসাইল ধ্বংস করার ফলে সামরিক গোলাবারুদের মজুদ বেশ কমে এসেছে। তাছাড়া যুদ্ধজাহাজগুলোর দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন টহলের কারণে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে, যা মার্কিন নৌবহরকে গভীর মানসিক ও কারিগরি চাপের মুখে ফেলেছে।
সংবেদনশীল এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। ইউরোপীয় কমান্ড কিংবা ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে একই সঙ্গে একাধিক যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার কারণে ওয়াশিংটন যে সম্পদ ও সক্ষমতার মারাত্মক ঘাটতিতে পড়ছে, একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন জেনারেলের এমন খোলাখুলি সতর্কবার্তাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
মন্তব্য