খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই মে ২০২৬, ১১:২২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নতুন করে অচলাবস্থায় পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায় একদিনেই তেলের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক ৬৮ মার্কিন ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৬১ ডলারে পৌঁছায়, যা ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। এর আগের দিনও দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ করে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা বাজারে ধারাবাহিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি বা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান পরস্পরবিরোধী হওয়ায় বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জার্মানভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান কমার্জব্যাংকের বিশ্লেষক কার্স্টেন ফ্রিজ জানান, দুই পক্ষই একে অপরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তেলের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি আরামকো’র প্রধান নির্বাহী আমীন নাসের সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত। এই পথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশের তেল রপ্তানি হয়ে থাকে, ফলে সেখানে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মনে করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে, তাহলে তেলের দাম দ্রুত ব্যারেলপ্রতি ৮ থেকে ১২ ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এবং হরমুজ প্রণালি অবরোধের নতুন কোনো হুমকি দেখা দিলে ব্রেন্ট তেলের দাম ১১৫ ডলারেরও ওপরে উঠতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার বর্তমানে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার ওপর অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বড় অর্থনীতির দেশগুলোর কৌশলগত অবস্থান—সব মিলিয়ে তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য