খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জুন ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে আকাশপথে এক অনন্য ও সামরিক কায়দায় রাজকীয় অভিবাদন জানিয়েছে পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ)। গত মঙ্গলবার ইরানি প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিশেষ ভিআইপি বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পরপরই দেশটির বিমান বাহিনীর একটি চৌকস ফাইটার স্কোয়াড্রন সেটিকে চারপাশ থেকে আকাশ প্রহারায় ঘিরে ধরে এবং এসকর্ট করে স্বাগত জানায়।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানকে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক ও সামরিক সম্মান জানাতে এই বিশেষ সংবর্ধনা অভিযানের আয়োজন করা হয়। এতে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বহরে থাকা অত্যন্ত আধুনিক ও শক্তিশালী ছয়টি জেএফ-১৭ থান্ডার এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ এয়ার ফরমেশন অংশ নেয়। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনা সমাপ্ত করে সুইজারল্যান্ড থেকে সরাসরি পাকিস্তান সফরে যান মাসুদ পেজেশকিয়ান।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমান সমীকরণে ইরানি প্রেসিডেন্টের এই পাকিস্তান সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কৌশলগত বলে মনে করছেন বিশ্ব ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ওপর আকস্মিক হামলা চালানোর পর এটিই মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর। মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা এবং ভূ-রাজনীতিতে নানা টানাপোড়েনের মধ্যে এই সফরের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী দুই মুসলিম দেশের দ্বিপাক্ষিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আকাশপথে জাঁকজমকপূর্ণ রাজকীয় প্রটোকল শেষে ইরানি প্রেসিডেন্টবাহী বিমানটি পাকিস্তানের মাটিতে সফলভাবে অবতরণ করলে সেখানে তাকে প্রথাগত উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তারা। দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন বার্তা দিচ্ছে।
পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী আকাশ প্রহরা বা বিশেষ এসকর্ট সুবিধা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো সফররত বন্ধুভাবাপন্ন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের আতিথেয়তা, গভীর কূটনীতি ও পরম শ্রদ্ধাকে বিশ্বমঞ্চে ফুটিয়ে তোলা। এটি পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের একটি অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মানিত অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
একই সঙ্গে এই বিশেষ সংবর্ধনায় চীনের সহযোগিতায় তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার এবং মার্কিন প্রযুক্তির এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের মতো প্রথম সারির ফাইটার জেটের যৌথ অংশগ্রহণ কেবল আনুষ্ঠানিকতাই ছিল না, বরং এর মাধ্যমে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক অভিযানিক সক্ষমতা, নিখুঁত আকাশ কৌশল এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বেরও একটি বড় ধরনের মহড়া ঘটেছে। আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা, আকাশসীমার নিরাপত্তা এবং দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক অটুট বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে এই রাজকীয় আকাশ সংবর্ধনা আন্তর্জাতিক মহলেরও বেশ নজর কেড়েছে।
মন্তব্য