খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জুন ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

যুক্তরাজ্যে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পারদ অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ১ হাজারেরও বেশি স্কুল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক এলাকায় স্কুল পুরোপুরি বন্ধ না করলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে গরমের তীব্রতা আকস্মিক ও দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুল কর্তৃপক্ষ এই জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল ওয়েলসেই তীব্র গরমের কারণে ৫০০টিরও বেশি স্কুল সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে তাদের পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত করেছে। মধ্য ও দক্ষিণ ওয়েলসের কাউন্টিগুলোতে এই পরিস্থিতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে ব্লেনাউ গওয়েন্টে অঞ্চলের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক, সেখানকার সবকটি স্কুলই পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া কেয়ারফিলি ও ব্রিজেন্ডের অধিকাংশ স্কুলেও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তর (মেট অফিস) জানিয়েছে, বুধবার (২৪ জুন) দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় পারদ চড়তে চড়তে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং পারিপার্শ্বিক নানা কারণে মানুষের শরীরে অনুভূত তাপমাত্রা বা ‘রিয়েল ফিল’ প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। এমন আবহাওয়ায় ঘরের বাইরে বের হওয়া মানুষের জন্য পরিস্থিতি কেবল অস্বস্তিকরই নয়, বরং রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ওয়েলসের শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর দেওয়া তথ্যমতে—কার্ডিফ, কারমার্থেনশায়ার, মার্থার টিডফিল, মনমাউথশায়ার, নিথ পোর্ট ট্যালবট, নিউপোর্ট, পাওইস, রনদা কিনন টাফ, সোয়ানসি, টরফেইন এবং ভেল অব গ্ল্যামরগানের মতো প্রধান অঞ্চলগুলোর স্কুলগুলো বন্ধের তালিকায় রয়েছে। ওয়েলসের এই ৫০০ স্কুলের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলেও অন্তত ৫৭৮টি স্কুল একই পথ অবলম্বন করেছে। দুই অঞ্চল মিলিয়ে এই মুহূর্তে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
যুক্তরাজ্যের বর্তমান তাপপ্রবাহের কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের যেসব কাউন্টি বা অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | আক্রান্ত অঞ্চল/কাউন্টি | স্কুলের বর্তমান অবস্থা |
| ১ | ব্লেনাউ গওয়েন্টে (Blaenau Gwent) | অঞ্চলের সব স্কুল সম্পূর্ণ বন্ধ |
| ২ | কেয়ারফিলি (Caerphilly) | অধিকাংশ স্কুল বন্ধ বা আংশিক খোলা |
| ৩ | ব্রিজেন্ড (Bridgend) | অধিকাংশ স্কুল সাময়িকভাবে স্থগিত |
| ৪ | কার্ডিফ (Cardiff) | আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশনা |
| ৫ | কারমার্থেনশায়ার (Carmarthenshire) | তীব্র গরমে নির্দিষ্ট সময়ের আগে ছুটি |
| ৬ | মার্থার টিডফিল (Merthyr Tydfil) | শিক্ষা কার্যক্রম আংশিক স্থগিত |
| ৭ | মনমাউথশায়ার (Monmouthshire) | তাপমাত্রা বাড়ায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা |
| ৮ | নিথ পোর্ট ট্যালবট (Neath Port Talbot) | আংশিক ও সম্পূর্ণ বন্ধের তালিকাভুক্ত |
| ৯ | নিউপোর্ট (Newport) | শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় ক্লাস স্থগিত |
| ১০ | পাওইস (Powys) | গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলগুলো বন্ধ |
| ১১ | রনদা কিনন টাফ (Rhondda Cynon Taf) | আংশিক বন্ধ ও অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা |
| ১২ | সোয়ানসি (Swansea) | তীব্র দাবদাহে স্কুল বন্ধের ঘোষণা |
| ১৩ | টরফেইন (Torfaen) | অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ |
| ১৪ | ভেল অব গ্ল্যামরগান (Vale of Glamorgan) | শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত |
| ১৫ | দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন কাউন্টি | অন্তত ৫৭৮টি স্কুল আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ |
এই অভূতপূর্ব দাবদাহের মধ্যেই গত মঙ্গলবার জার্সিতে জুন মাসের ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। জার্সি আবহাওয়া বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, সেখানে তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত উঠেছিল, যা এই অঞ্চলের আবহাওয়ার ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।
এমন চরম বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং আগে থেকেই বিভিন্ন ক্রনিক বা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন—এমন অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি অতিরিক্ত নজরদারি ও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ ইংল্যান্ডে আগে থেকে জারি থাকা চরম তাপমাত্রা সতর্কতা (এক্সট্রিম হিট অ্যালার্ট) আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, গরমের এই তীব্র ভাব আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে, যার ফলে স্কুল বন্ধের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।
মন্তব্য