খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুন ২০২৬, ৪:২৬ পিএম

শিবগঞ্জ উপজেলার ৫৩ বছর পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বগুড়ায় আলোচনা শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়’ করার জন্য সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টির অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের নাম যুক্ত করে বিদ্যালয়ের নামকরণের প্রস্তাবটি আলোচনায় এলেও এ বিষয়ে তাঁর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর রাজনৈতিক প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিমন্ত্রী নিজেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে ১ জুন একটি আধা সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়ে তাঁর নামে নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
ওই পত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজেদের উদ্যোগে তাঁর নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন, যা তাঁর কাছে অনভিপ্রেত। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, পরিচিতি ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অধিকতর উপযুক্ত।
পত্রে আরও উল্লেখ করা হয় যে, মীর শাহে আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে ইতোমধ্যে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জমি দান, নিজস্ব অর্থায়ন, প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যয় বহন এবং দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
| ক্রম | প্রতিষ্ঠানের নাম | প্রতিষ্ঠার বছর |
|---|---|---|
| ১ | মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় | ১৯৯৭ |
| ২ | বেতগাড়ি মীরবাড়ি সরকারি এতিমখানা | ২০০৪ |
| ৩ | বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চবিদ্যালয় | ২০০১ |
| ৪ | বেতগাড়ি মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বিএম মহাবিদ্যালয় | ২০০৪ |
| ৫ | তিয়াইল মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় | ২০১২ |
| ৬ | বেতগাড়ি মীর শাহে আলম মৎস্য ও কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট | ২০১৩ |
| ৭ | বেতগাড়ি মীর মাহাতাব-শাহে আলম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা | ২০২৩ |
| ৮ | মোকামতলা মীর শাহে আলম-ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয় | ২০২৩ |
| ৯ | কিচক মীর শাহে আলম কলেজ | ২০২৩ |
| ১০ | বেতগাড়ি মীর শাহে আলম ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট | ২০২৫ |
ডিও পত্রের শেষাংশে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেন, উল্লিখিত ১০টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে তাঁর বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব গ্রহণ বা অনুমোদন না করা হোক।
অন্যদিকে, ৯ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা থেকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) স্থাপন, পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা-২০২২ (সংশোধিত-২০২৩)’-এর অনুচ্ছেদ ১৪.৫ অনুযায়ী সরেজমিন পরিদর্শন করে মতামত ও সুপারিশ পাঠাতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বগুড়ার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি এলাকার অন্যতম পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেন। বিদ্যালয়টির জন্য ৭৪ শতক জমি দান করেছিলেন মরহুম রফিক উদ্দিন প্রামাণিক, মরহুম মুছা চৌধুরীসহ স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি।
বিদ্যালয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা বিদ্যালয়ের পরিচালনায় যুক্ত থাকলেও অতীতে কেউ কখনো বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেননি।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে সাধারণ ও কারিগরি—দুই ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানে ৩৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯২৪।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠার বছর | ১৯৭৩ |
| অবস্থান | শিবগঞ্জ, বগুড়া |
| জমির পরিমাণ | ৭৪ শতক |
| শিক্ষার্থী সংখ্যা | ৯২৪ |
| শিক্ষক-কর্মচারী | ৩৪ জন |
| শিক্ষা শাখা | সাধারণ ও কারিগরি |
| নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবিত নাম | শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় |
প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে জাতীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয়করণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি মিলনায়তন এবং ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নামাজঘর নির্মিত হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রধান শিক্ষক আরও দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রীর আপত্তির পর বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১১ জুন নাম পরিবর্তনের আবেদন প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আরেকটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এ দাবির সমর্থনে চিঠিটির অনুলিপি প্রদর্শন করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, এই সংবাদে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়া, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদন, প্রতিমন্ত্রীর ডিও পত্র এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্য