খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জুন ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি গড়ার স্বপ্ন বহুদিনের। বিশেষ করে স্পেসএক্স ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর (সাবেক টুইটার) মালিক ইলন মাস্ক বছরের পর বছর ধরে এই লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন। লাল গ্রহে দ্রুততম সময়ে পৌঁছানোর এই বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় এবার তাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিল গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক চেয়ারম্যান এরিক শ্মিটের বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠান ‘রিলেটিভিটি স্পেস’। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পরবর্তী মঙ্গল অভিযানের জন্য মহাকাশযান তৈরির কাজ পেয়েছে তারা। এই বড় চুক্তিটি পাওয়ার দৌড়ে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সকে সরাসরি পেছনে ফেলেছে রিলেটিভিটি স্পেস। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের তৈরি বিশেষ মহাকাশযানটি নাসার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি নিয়ে মঙ্গলের বুকে পাড়ি জমাবে এবং সেখানে বিভিন্ন জটিল বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে।
নাসার বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে এই মহাকাশযানটি মঙ্গলের উদ্দেশে উৎক্ষেপণ করা হবে। মহাকাশ বিজ্ঞানের জটিল হিসাব-নিকাশ এবং প্রস্তুতির তুলনায় এই সময়সীমা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। রিলেটিভিটি স্পেসকে এখন এই অল্প সময়ের মধ্যে নাসার ভারী ও অত্যন্ত সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ বহনের উপযোগী মহাকাশযান তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে মহাকাশে যাওয়ার জন্য মূল রকেটের নির্মাণকাজও সফলভাবে শেষ করার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে তাদের সামনে। তবে ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি প্রিন্টেড রকেট তৈরির প্রযুক্তিতে রিলেটিভিটি স্পেসের বিশ্বজোড়া সুনাম রয়েছে। মূলত এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দক্ষতার কারণেই নাসা তাদের ওপর এই বড় দায়িত্বের আস্থা রেখেছে।
নাসার শীর্ষ কর্মকর্তা জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এক বিবৃতিতে এই যৌথ অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, নাসার বিশ্বমানের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সঙ্গে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের সমন্বয় ঘটিয়ে অনেক বড় সাফল্য পাওয়া সম্ভব। এর মাধ্যমে অনেক বেশি এবং নিখুঁত বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। এই নতুন উদ্যোগটি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব মিশন পাঠানোর ক্ষেত্রে গবেষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য অনেক দ্রুত সরবরাহ করতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে এটি সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
আমেরিকার এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি জানিয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল ও পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করা। এর জন্য মহাকাশযানটিতে মোট চারটি অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্র পাঠানো হবে। যন্ত্রগুলো মঙ্গলের কক্ষপথে ঘুরে ঘুরে সেখানকার বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের তথ্য সংগ্রহ করবে।
বিজ্ঞানীদের আশা, এই যন্ত্রগুলোর পাঠানো ডেটা পর্যালোচনার মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহের ধূলিকণা, বাতাস ও তাপমাত্রার প্রথম দৈনিক ও বৈশ্বিক চিত্র পাওয়া যাবে। লাল গ্রহের আবহাওয়া ঠিক কীভাবে কাজ করে, তা বুঝতে এই তথ্যগুলো ভীষণ জরুরি। এই অভিযানের সাফল্য ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানুষের ল্যান্ডার পাঠানো এবং সরাসরি মানব মিশনকে অনেক বেশি নিরাপদ ও সহজ করে তুলবে। বিশ্বখ্যাত দুই প্রযুক্তি জায়ান্টের এই পরোক্ষ লড়াই মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎকে আরও গতিশীল করে তুলল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও নাসার সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এই অভিযানের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো বিস্তারিত জানা গেছে।
মন্তব্য