খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জুন ২০২৬, ১১:০ পিএম

রাজধানী ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের দৌরাত্ম্য রুখতে একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে মোট ৫৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিনগত রাতভর এই ঝটিকা অভিযান চলে।
আজ বুধবার (২৪ জুন) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী অভিযানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তেজগাঁও বিভাগের অধীনস্থ ছয়টি থানা এলাকায় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধের পকেটগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়েছে।
পুলিশের বিশেষ এই অভিযানে সবচেয়ে বেশি অপরাধী ধরা পড়েছে মোহাম্মদপুর থানা এলাকায়। এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা বিভিন্ন ছিনতাইকারী চক্র ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি স্পটে হানা দেয় পুলিশ। এছাড়া অন্যান্য থানা এলাকা থেকেও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগের ছয়টি থানায় গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
মোহাম্মদপুর থানা: অপরাধের আখড়া ও বিভিন্ন স্পট থেকে সবচেয়ে বেশি ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
তেজগাঁও থানা: এই এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা: মাদক ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত ৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আদাবর থানা: এই জনবহুল এলাকা থেকে বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত ৮ জনকে ধরা হয়েছে।
শেরেবাংলা নগর থানা: এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
হাতিরঝিল থানা: বিনোদন ও আশেপাশের এলাকা থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
অভিযান শেষে পুলিশ গ্রেফতারকৃত ৫৮ জনের নাম ও বয়স প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় যেমন রয়েছে উঠতি বয়সী তরুণ, তেমনই আছেন বিভিন্ন চক্রের মধ্যবয়সী মূলহোতারা। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
বাবু মিয়া (২৩), রবিউল ইসলাম রনি (২১), আবির হোসেন (২৪), ওয়াসিম (২৪), শহিদুল ইসলাম (৩৫), হাবিবুর রহমান (২৭), রোজিনা (৩৮), সোনিয়া (২৬), সীমা সেলিনা (৪৩), উম্মে কুলসুম সুমী (৪১), মনির হোসেন ওরফে সম্রাট (৩৬), সাইফুল সরদার (২৯), মোস্তাফিজুর রহমান সোহাগ, একরামুল হক, শাওন (১৮), ফরহাদ (১৭), ফয়সাল আহম্মেদ (৩৮), সুমন (২৮), আজমল হোসেন (২৯), নুর আলী (২০), আল-আমিন (১৮), রুবাইয়াত আল মুসলিম গোলাম রাব্বি (২১), পাভেল (২১), মিলন (৩০), রাকিব (২৪), মিজান (১৮), আরিফুল ইসলাম, আরমান ইসলাম (২০), স্বপন (৩৫), হাবিব (৩০), জামাল (৩৫), ওয়াহিদ (৩০), আরিফ (২৪), রিসালাত শাহরিয়ার (৩৫), রাবেয়া খাতুন (৩০), চাঁন মিয়া (৪০), আমির হামজা (২৫), মুন্না (২৪), মোহাম্মদ আলী (৩০), খোকন তালুকদার (৪৫), সুজন (২০), আরমান (১৮), আশিক (১৯), অপু ইসলাম ওরফে সাকিব (১৮), স্বপন (২০), মোতালেব হোসেন (৪২), ইয়াছিন (২২), সাগরিকা আক্তার বর্ণা (২৩), রনি (৪১), মেহেদী হাসান, আনোয়ার হোসেন (৩৫), মাজহারুল ইসলাম (২৬), হানিফ (২৪), আল-আমিন (২৮), সোহেল রানা (২৮), রায়হান (২৯), শামছুল মোল্লা (৫০) এবং আব্বাস আলী (৩৬)।
তেজগাঁও বিভাগীয় পুলিশ জানিয়েছে, অতি সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ আসছিল। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অপরাধীদের গোপন আস্তানা ও আড্ডার জায়গাগুলোতে সুনির্দিষ্টভাবে এই অভিযান চালানো হয়।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে আগে থেকে থাকা ওয়ারেন্ট কিংবা নতুন অপরাধের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরের পর সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে গ্রেফতারকৃত ৫৮ জনকেই কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই ধরণের চিরুনি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য