আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শেষ ষোলোর উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মিশর বেনিনকে ৩–১ গোলে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে পদার্পণ করেছে। যদিও স্কোরলাইন সহজ মনে হলেও মাঠের বাস্তব লড়াই ছিল দারুণ চ্যালেঞ্জিং। নিয়মিত সময় শেষে ফলাফল ছিল ১–১, ফলে মিশরের জয় নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
ম্যাচে বেনিন, যাদের ডাকনাম ‘চিতা’, মিশরের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিল। ৬৮ মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার দুর্দান্ত দূরপাল্লার বাঁকানো শটে এগিয়ে যায় মিশর। তবে ৮৪ মিনিটে জোডেল ডসু সমতা ফিরিয়ে আনেন। মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনাওয়ি প্রথম শট ঠেকালেও বলটি ডসুর পায়ে চলে যায় এবং তিনি কাছ থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি।
নির্ধারিত সময়ের খেলা ১–১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে ইয়াসির ইব্রাহিমের শক্তিশালী হেডারে মিশর আবার লিড নেয়। ম্যাচের ১২৩ মিনিটে মোহাম্মদ সালাহ গোল করে দলকে নিশ্চিত জয়ে পৌঁছে দেন। এই গোলের মাধ্যমে সালাহ টুর্নামেন্টে মোট ১০ গোলে পৌঁছে, যা তাকে মিশরের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। তার ওপরে আছেন হাসান এল শাজলি (১২) ও হোসাম হাসান (১১)।
সাতবারের আফ্রিকা কাপ জয়ী মিশর এবার শেষ পাঁচ আসরে তৃতীয়বার কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য দল ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আগাদিরেই অবস্থান করবে। তাদের প্রতিপক্ষ হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্ট ও বুরকিনা ফাসোর ম্যাচের বিজয়ী।
ম্যাচের শুরুতে মিশর কিছু সুযোগ হাতছাড়া করে। প্রথম ১০ মিনিটে ওমর মারমুশ গোলরক্ষকের মুখোমুখি হলেও গোল করতে ব্যর্থ হন। পরে সালাহর পাস থেকে মারমুশের আরেকটি শট বেনিনের গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ইয়োহান রোচে। দুই দলের খেলোয়াড়ই ইনজুরির ধাক্কা খায়; বেনিনের ফরোয়ার্ড তোসিন আইয়েগুন এবং মিশরের মোহাম্মদ হামদিকেও মাঠ ছাড়তে হয়।
বেনিনেরও বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ ছিল। এক ঘণ্টার মাথায় ডসু একা গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়ে গোল করতে পারেননি। তবে অতিরিক্ত সময়ে দুই গোলের মাধ্যমে মিশর জয় নিশ্চিত করে। চার বছর আগে ক্যামেরুনে রানার্স-আপ হওয়ার পর এই প্রথম তারা কোয়ার্টার ফাইনালে ফিরল। উল্লেখ্য, ২০০২ সালের পর থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে কখনোই বাদ পড়েনি মিশর; এই সময়ে পাঁচবার ফাইনালে খেলেছে এবং তিনবার শিরোপা জিতেছে।
ম্যাচের মূল তথ্য (শেষ ষোলোর ম্যাচ)
| সময়কাল | গোলদাতা | ফলাফল | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ৬৮ মিনিট | মারওয়ান আতিয়ার | ১–০ মিশর | দূরপাল্লার বাঁকানো শট |
| ৮৪ মিনিট | জোডেল ডসু | ১–১ সমতা | কাছ থেকে গোল |
| অতিরিক্ত ১ম হাফ | ইয়াসির ইব্রাহিম | ২–১ মিশর | হেডার গোল |
| অতিরিক্ত ২য় হাফ | মোহাম্মদ সালাহ | ৩–১ মিশর | জয় নিশ্চিত গোল |
মিশর এখন কোয়ার্টার ফাইনালে এবং আফ্রিকা কাপের ইতিহাসে তাদের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
