জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৩৯ এএম

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পড়া না পারার অজুহাতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে দেওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা এবং শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানোর পর অবশেষে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এ ঘটনার জেরে এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
Table of Contents
ভুক্তভোগী শিশুটির নাম আঁখি আক্তার (৯)। সে শ্রীনগর উপজেলার বিরতারা ইউনিয়নের মজিদপুর দয়হাটা এলাকার বাগে নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই শ্রেণিকক্ষে পড়া না পারার অজুহাতে মাদরাসার শিক্ষক মো. সাফায়েত শিশু আঁখিকে লাঠি দিয়ে অমানবিক ও বেধড়ক মারধর করেন। মারধরের সময় এবং পরবর্তীতে শিশুটিকে ভয় দেখানো হয় যে, ঘটনাটি পরিবারকে জানালে তাকে আরও কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। শিক্ষকের এমন হুমকিতে ভয়ে অবুঝ শিশুটি বেশ কয়েকদিন মারধরের বিষয়টি নিজের পরিবারের কাছে গোপন রাখে।
ঘটনার কয়েকদিন পর আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং শিশুটি ব্যথায় কাতর হয়ে পড়ে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে শিশু আঁখি তার ওপর চালোনো ওই নির্মম নির্যাতনের কথা কান্নাজড়িত কণ্ঠে খুলে বলে।
পরিবারের সদস্যরা কালবিলম্ব না করে শিশুটিকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং এক্স-রে করানোর পর নিশ্চিত করেন যে, শিক্ষকের মারধরের আঘাতে শিশুটির মেরুদণ্ডের একটি হাড় ভেঙে গেছে।
শিশুটির বাবা মো. আলমগীর খাঁন জানান, ঘটনাটি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিচার চাইতে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জলের শরণাপন্ন হন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বিষয়টি সমাধান বা ন্যায়বিচারের আশ্বাস না দিয়ে তা সামাজিকভাবে চেপে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
প্রধান শিক্ষকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও আপসকামিতার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় এলাকাবাসী। নির্যাতিত শিশুর উপযুক্ত বিচার ও অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। স্থানীয়দের দাবির মুখে ও শারীরিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে শনিবার (১ আগস্ট) ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সাফায়েত এবং প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জলের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিবিড় তদন্ত চালানো হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন আইনত নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বারবার এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবক মহলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সুশীল সমাজ এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য