জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

ফুটবলের পরাশক্তি এবং সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলে খেলাটির ঐতিহ্য ও আবেগের জায়গাটি অতি প্রাচীন। তবে আধুনিক যুগের পেশাদারিত্ব, ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ এবং জাতীয় দলের মাঠের পারফরম্যান্সের নিম্নমুখী ধারা সাম্বানি নৃত্যের এই দেশে বড় ধরনের সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে আসছে। সমসাময়িক পরিসংখ্যান বলছে, সাধারণ ব্রাজিলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ফুটবলের প্রতি যে চিরচেনা উন্মাদনা ছিল, তাতে বড় ধরনের অনীহা ও শূন্যতা দেখা যাচ্ছে।
‘ডেটাফোলহা’ সমীক্ষার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ১৬ বছর বা তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ (৩৬ শতাংশ) ফুটবলের সব ধরনের খবর বা আপডেট নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। যেখানে ফুটবলের সমার্থক হিসেবে ভাবা হতো পুরো ব্রাজিলকে, সেখানে এই ধরনের পরিবর্তনের পেছনে সামাজিক ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের বেশ কিছু বাস্তবতা সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানী ও ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা।
১. আন্তর্জাতিক স্তরে ধারাবাহিক হতাশা: ২০০২ সালের পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে সেলেসাওরা আর বিশ্বমঞ্চের শিরোপা স্পর্শ করতে পারেনি। টানা ছয়টি বিশ্বকাপে ফাইনালের আগে (এমনকি বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বে) বাদ পড়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা ভক্তদের মধ্যে চরম মানসিক ক্লান্তি তৈরি করেছে।
২. শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন: জরিপ অনুসারে, শিক্ষাগত স্তরের সাথে সচেতনতার সম্পর্ক থাকলেও তরুণ প্রজন্মের বিনোদনের মাধ্যম বদলে গেছে। ই-স্পোর্টস, গেমিং এবং অন্যান্য বিশ্বায়নভিত্তিক অনলাইন বিনোদনের ভিড়ে ফুটবলের একচ্ছত্র আধিপত্য কমছে।
৩. ঘরোয়া ফুটবলের মান ও খেলোয়াড় হিজরত: কম বয়সেই সেরা ব্রাজিলীয় তরুণ প্রতিভাদের ইউরোপীয় ক্লাবগুলোতে পাড়ি জমানোর প্রবণতা দেখা যায়। ফলে স্থানীয় লিগের আকর্ষণ হ্রাস পাচ্ছে, যা দেশের ভেতরের সাধারণ মানুষকে স্থানীয় ক্লাবের খেলা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
মন্তব্য