খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই মার্চ ২০২৬, ৮:২৮ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীতে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বাবুল সিকদার (৬৫) নামে এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে উপজেলার কেশপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গাজী বাড়ির ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে ডুবুরি দল তার লাশ উদ্ধার করে। ঈদের আনন্দঘন সময়ে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।
নিহত বাবুল সিকদার উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় তিনি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ জেলে এবং তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরেই তার জীবিকা নির্বাহ হতো। স্থানীয়দের মতে, নদীর স্রোত, জোয়ার-ভাটা ও প্রাকৃতিক বৈরিতার সঙ্গে তিনি অভ্যস্ত ছিলেন। তবে আকস্মিক দুর্যোগের মুখে অভিজ্ঞতাও যে অনেক সময় ব্যর্থ হয়ে যায়, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।
Table of Contents
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে নদীর ঘাটে বাঁধা থাকা বাবুল সিকদারের মাছ ধরার নৌকাটি জোয়ারের প্রবল স্রোতের কারণে ছুটে যায়। নদীর পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোত ছিল অত্যন্ত তীব্র। নৌকাটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি দ্রুত নদীতে নেমে সেটি উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
কিন্তু সাঁতরে নৌকার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ঢেউ ও ঘূর্ণির কবলে পড়ে তিনি নদীতে তলিয়ে যান। উপস্থিত জেলেরা ও স্থানীয়রা তৎক্ষণাৎ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও স্রোতের কারণে কেউ কাছে যেতে পারেননি।
ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়। পরে প্রশাসনকে অবহিত করা হলে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনুষ্ঠানিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নদীতে অনুসন্ধান চালানোর পর রোববার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, তেঁতুলিয়া নদী বিশেষ করে জোয়ারের সময় অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। হঠাৎ স্রোতের পরিবর্তন, ঘূর্ণিপাক এবং গভীর পানির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া নদীতে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ঈদের দিনে পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে বাবুল সিকদারের পরিবার গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তার মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশীরা জানান, তিনি ছিলেন পরিশ্রমী ও নিরহংকারী মানুষ, যিনি পরিবারের দায়িত্ব পালনে সবসময় সচেষ্ট ছিলেন।
ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “ঈদের মতো আনন্দের দিনে এমন একটি দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।”
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | বাবুল সিকদার (৬৫) |
| পেশা | জেলে |
| ঠিকানা | ধুলিয়া ইউনিয়ন, বাউফল, পটুয়াখালী |
| নিখোঁজের সময় | ২১ মার্চ, দুপুর |
| উদ্ধার সময় | ২২ মার্চ, সকাল |
| স্থান | তেঁতুলিয়া নদী, কেশপুর ইউনিয়ন |
| দুর্ঘটনার কারণ | জোয়ারের প্রবল স্রোতে নৌকা উদ্ধারে গিয়ে ডুবে যাওয়া |
নদীভিত্তিক জীবিকায় নিয়োজিত মানুষের জন্য নিরাপত্তা সরঞ্জামের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইফ জ্যাকেট, নিরাপত্তা দড়ি এবং সহায়ক নৌযান ব্যবহারের মাধ্যমে এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।
বাবুল সিকদারের মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি নদী-নির্ভর মানুষের প্রতিদিনের ঝুঁকিপূর্ণ জীবনের প্রতিচ্ছবি। ঈদের আনন্দঘন মুহূর্তে ঘটে যাওয়া এই ট্র্যাজেডি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নিরাপত্তার প্রতি সামান্য অবহেলাও কত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। যথাযথ প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং প্রশাসনিক উদ্যোগ থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
মন্তব্য